

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কৃষ্ণচূড়াকে তাঁর কবিতায় মর্যাদাবান করেছেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলও বাদ পড়েননি। হিন্দিতে কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া উভয়েরই নাম উল্লেখ করা হয়েছে গুলমোহর বা গুলমোর। অবশেষে গুলমোহর নামটি ভারতে গৃহীত হয়েছে কৃষ্ণচূড়ার নামে।
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদের মধ্যে একটি হল কৃষ্ণচূড়া গাছ । কৃষ্ণচূড় গাছ একটি বড়, প্রস্ফুটিত, পর্ণমোচী উদ্ভিদ। গাছটি আকর্ষণীয় এবং হালকা সুগন্ধযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। কৃষ্ণচূড়া গাছটি একটি বিস্তৃত মুকুট সহ একটি বিশাল আলংকারিক পর্ণমোচী গাছ । গ্রীষ্মমন্ডলীয় পরিবেশের সবচেয়ে দুর্দান্ত ফুলের গাছগুলির মধ্যে একটি, এর সৌন্দর্য ফুলের মৌসুমে প্রতিফলিত হয়।

বসন্তের আগমনে গাছে নতুন পাতা গজায়। পাতা ক্ষুদ্র, যৌগিক ও চিরুনির মতো সাজানো থাকে। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফলের আকার চ্যাপ্টা লম্বা, দেখতে তলোয়ার শিমের আকৃতির, ফলের রঙ প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ক হলে কালচে রঙ ধারন করে। ফলের অভ্যন্তরে বীজ হয়, বীজের রঙ কালো। বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়। গাছ দ্রত বর্ধনশীল, সাধারণত বীজ/চারা রোপনের ৫ থেকে ৬ বছর বয়সে গাছে ফুল ফুটে। গাছের কাঠ মাঝারি শক্ত মানের, খুব বেশী শক্ত মানের নয় বলে জ্বালানির লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অন্য কাজে তেমন ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়না। উঁচু ভূমি কৃষ্ণচূড়া গাছ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত স্থান। আমাদের দেশে অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক, সড়ক-মহাসড়কের ধারে ও অন্যান্য স্থানে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছোট-বড় এবং কোন কোন স্থানে সুউচ্চ কৃষ্ণচূড়া চোখে পড়ে।
কৃষ্ণচূড়া ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অপরূপ সৌন্দর্য ছাড়াও এর পাতা, মূলের বাকল ও ফুল ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন যা জ্বর ও খুশকি নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ভেষজটি হেমিপ্লেজিয়া, আর্থ্রাইটিস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।
কৃষ্ণচূড়া গাছের শিকড়, বাকল এবং ফুল সবই পরজীবী সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি এই গুঁড়া ২ গ্রাম, যা শুকিয়ে এবং গুঁড়া করা হয়েছে, হালকা গরম পানির সাথে একত্রে নিতে পারেন।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়: রস বের করার জন্য আপনি একটু জল দিয়ে ফুলগুলিকে ম্যাশ করতে পারেন। তারপরে, এই রসটি প্রতিদিন দুবার পান করুন শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানির আক্রমণ সহ শ্বাসকষ্ট কমাতে।
জ্বর নিরাময়: কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতার রস মিশিয়ে ২০ মিলিলিটার দুবার পান করলে জ্বর ভালো হয়।
পেটের সমস্যা নিরাময় করে: কৃষ্ণচূড়ার ছাল ধুয়ে পাচন সমস্যা সমাধান করে, যা চিনির মিষ্টির সাথে খেলে রক্তাক্ত ডায়রিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাতার নির্যাস দেওয়া হয়।
কলেরা নিরাময় করে: এই গাছের শিকড় ম্যাশ করা হয় এবং তারপর পানিতে সিদ্ধ করে একটি ক্বাথ তৈরি করে যা কলেরার চিকিত্সা করে। প্রতিদিন তিন ঘন্টার জন্য, কলেরার চিকিত্সার জন্য এই পানির ২০ সিসি পান করুন।
খিঁচুনি নিরাময় করে: খিঁচুনি নিরাময় করা হয় শিকড় গুলিয়ে এবং চিনির মিছরি দিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে।
মাড়ির সমস্যার চিকিৎসা করে: মাড়ির চিকিৎসা করে দাঁতের ক্ষয়, মুখের ঘা এবং মাড়ির রক্তপাতের চিকিৎসার জন্য কৃষ্ণচূড়া ফুল থেকে তরল বের করে এবং এটি দিয়ে গারগল করার মাধ্যমে সমস্যা।
ম্যালেরিয়া চিকিৎসা: একটি ফুলের ক্বাথ ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় কার্যকর।
কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা করে: কৃষ্ণচূড়া পাতা সিদ্ধ করে নির্যাস তৈরি করে কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা করা যেতে পারে, যা ৫০ মিলি ডোজে দিনে দুবার খেতে হবে।
চোখের জন্য: চোখ পরিষ্কার রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ মুক্ত রাখতে পাতার ক্বাথের পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মাসিক সমস্যার জন্য: ফুল এবং বীজ নিয়মিত ঋতুস্রাব অর্জন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং যদি আপনার মাসিকের সমস্যা থাকে তবে ক্র্যাম্প কমাতে পারে।
কৃষ্ণচূড়া শুধু বৃক্ষের শাখায় নয়, কৃষ্ণচূড়ার আগুনের রঙ শোভা পায় গাছের তলাও। বিস্তৃত জায়গা জুড়ে সে তার উদারতা ছড়িয়ে দেয়। সংকীর্ণতা নয়, উদারতাই তার ধর্ম। যা প্রেম ও সৌন্দর্যের প্রতিমান হয়ে জীবনের সঞ্চার ঘটায় প্রাণে প্রাণে। দীর্ঘ প্রসারিত ফুলের প্রাচুর্যে লাল হয়ে উঠে প্রকৃতি। রাধাচূড়া যে ভালোবাসতে পারে না। সে ভালো প্রেমিক নয়। ঠিক তদ্রুপ, কৃষ্ণচূড়া যে ভালোবাসে না সে ভালো প্রণয়নী নয়। প্রণয় শব্দটির মতো ¯িœগ্ধ কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া। শাশ^ত প্রেমের অর্ঘ্য হয়ে থাকুক প্রতিটি ভালোবাসাবাসি মানুষের হদয়ে, বলুক ভালোবাসি, ভালোবাসি। কাজী নজরুল
মো. আবদুল কুদ্দুস/প্রিয় সময়
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন








