

মিজানুর রহমান রানা :
আল্লাহ তায়ালার কসম—সন্তান কেবল দেহগত উত্তরাধিকার নয়, বরং এক পবিত্র আমানত, যা আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে মহান রবের পক্ষ থেকে। সন্তান লালন-পালনের বিষয়টি আল্লাহর নিকট এতটাই গুরুত্বর্পূর্ণ যে তিনি এর বিষয়ে কুরআনে এবং নবী (সা.) -এর জীবনে অসংখ্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

সন্তান: এক মহামূল্যবান আমানত
হাদীসে এসেছে: “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”— (সহিহ বুখারী- ৭১৩৮, সহিহ মুসলিম-১৮২৯)
এই হাদীসের আলোকে অভিভাবকের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল তার সন্তানকে ঈমান, আখলাক এবং সত্য পথে পরিচালিত করা। কেবল খাদ্য, পোশাক বা শিক্ষাগত সার্টিফিকেট নয়—বরং তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গঠনে যত্নবান হওয়াই প্রকৃত দায়িত্ব।
বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের অবস্থান
যখন সমাজে শিশু ধর্ষণ, হত্যা, গণপিটুনির মত ঘটনা অহরহ ঘটছে—তখন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, আমাদের সন্তানেরা এক ভয়াবহ নৈতিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। তারা আজ তথাকথিত আধুনিকতার নামে আত্মকেন্দ্রিকতা, গুজবে কান দেওয়া, অশ্লীলতা ও অসহিষ্ণুতার শিকার।
“নিশ্চয়ই ধ্বংস হবে সে ব্যক্তি, যে নিজের সন্তানকে ফালতুভাবে বড় করে।”— (সূরা শুআরা এর আলোকে, বিভিন্ন তাফসীর মতে)
সূরা তাহরীম (৬৬:৬)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” এই আয়াতের তাফসীরে অনেক মুফাসসির উল্লেখ করেছেন—যদি সন্তানদের সঠিকভাবে ইসলামী শিক্ষায় গড়ে না তোলা হয়, তবে তা ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
ইসলাম কীভাবে আমাদের দিকনির্দেশনা দেয়?
১. তাওহীদের শিক্ষা: “তোমার পালনকর্তা শুধু একজন আল্লাহ। তিনি ছাড়া কোনো ইবাদতযোগ্য নেই। তিনিই দয়াবান, অসীম করুণাময়।”— (সূরা বাকারা: ১৬৩)
শিশুরা যেন আল্লাহর একত্ব বোঝে, তাঁর প্রতি ভয় এবং ভালোবাসার ভারসাম্য গড়ে তোলে—এটাই নৈতিক ভিত্তি।
২. সালাতের শিক্ষা: রাসূল (সা.) বলেন: “তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও, আর দশ বছর বয়সে তা না পড়লে সংশোধন কর।” — (আবু দাউদ-৪৯৫)
— অর্থ: “তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও, আর দশ বছর বয়সে তা না পড়লে তাদেরকে সংশোধন কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।”
সালাত কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আল্লাহর সাথে সন্তানের হৃদয়ের সংযোগ গড়ে তোলে, দৈনন্দিন জীবনে তাকে আল্লাহমুখী করে রাখে।
৩. আখলাক ও সহানুভূতির শিক্ষা:
নবী (সা.) শিশুদের সঙ্গে হাসতেন, আদর করতেন, তাদের মত আচরণ করতেন—তাতে ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস এবং সম্মানবোধ জাগ্রত হত।
হাদীস: “যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
— (তিরমিজি- ১৯২১ )
অভিভাবকের ভূমিকা: শুধুই অভিভাবকত্ব নয়, এক ইবাদতের অঙ্গ
একজন অভিভাবক তার সন্তানকে ধর্মীয় পরিবেশে গড়ে তুললে, সে কুরআনের আলোয় তার পথ নির্মাণ করতে শেখে। নবী (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্তানের পবিত্র শিক্ষা অভিভাবকের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় উপহার।
কুরআনে এসেছে: “তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।”
— (সূরা তাহরীম: ৬)
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সন্তানদের কেবল সামাজিক মর্যাদা নয়, চূড়ান্তভাবে জান্নাতের পথ দেখানোই অভিভাবকের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।
সন্তানেরা উম্মতের ভবিষ্যৎ
আমরা যদি সন্তানদের অন্তরে আল্লাহভীতি, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা, এবং হিকমাহ ও ইখলাস প্রতিষ্ঠা করতে পারি—তবে তারা শুধু ভালো মানুষ নয়, বরং উম্মতের শক্ত ভিত হয়ে উঠবে।
নবী (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি মৃত্যুর পর তিনটি জিনিস রেখে যায়, তার সওয়াব চলমান থাকে: সদকা জারিয়া, উপকারী জ্ঞান, এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।” — (সহিহ মুসলিম-১৬৩১)
নেক সন্তান কেবল পরিবারের গৌরব নয়—সে উম্মতের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ দোয়া, এক আলোকবর্তিকা।
আজ সমাজের নৈতিক দুর্যোগে আমাদের সন্তানেরা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসলামের আলো এখনও আমাদের পথ দেখায়। হৃদয়ে কুরআনের আলো, জীবনে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ—এই দুই শক্তিই সন্তানকে নৃশংসতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
সন্তানকে ফিরে পাওয়া মানে, সমাজের ভবিষ্যতকে আলোকিত করা। আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে ঈমান জাগিয়ে তুলি, হিদায়তের শিক্ষায় বড় করি, এবং এ আমানতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করি। তাহলেই আল্লাহর কসম—এই সমাজ আবার ভালোবাসা, আলো এবং মানবতার পথে ফিরে আসবে।
শনি বার, ১২ জুলাই ২০২৫
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন










