

মানুষের জীবনে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি নিঃসন্দেহে এক বড় নিয়ামত। এগুলো জীবনের সৌন্দর্য, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের প্রতীক। কিন্তু এই নিয়ামতই যদি আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর ফিতনা—পরীক্ষা, যা মানুষকে চিরন্তন ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।
কোরআনের সতর্কবাণী আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।” — সূরা আল-মুনাফিকূন, আয়াত ৯

এই আয়াতে আল্লাহ সরাসরি ঈমানদারদেরকে সতর্ক করছেন। ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি যেন আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত ও আনুগত্য থেকে গাফেল না করে। যারা এই গাফেলতায় পড়ে, তারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত।
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে: “তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।” — সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত ১৫
এখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দুনিয়ার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। কে এগুলোর মাঝে থেকেও আল্লাহর পথে অটল থাকে, আর কে গাফেল হয়ে পড়ে—এটাই যাচাইয়ের বিষয়।
হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ :
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আদম সন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে, তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে উপকার পাওয়া যায়, এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”— মুসলিম, হাদিস ১৬৩১
এই হাদিসে সন্তানকে নিয়ামত হিসেবে দেখানো হয়েছে, যদি সে নেক হয়। কিন্তু যদি সন্তানকে দ্বীন থেকে দূরে রেখে শুধু দুনিয়াবি সফলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে সে হয়ে উঠতে পারে পিতামাতার জাহান্নামের কারণ।
বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি
আজকের সমাজে আমরা দেখি, মানুষ ধন-সম্পদ অর্জনের পেছনে এতটাই ব্যস্ত যে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, যাকাত, হজ—সবকিছুই পিছিয়ে পড়ে। সন্তানদের ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তায় দ্বীনের শিক্ষা উপেক্ষিত হয়। স্কুল, কোচিং, বিদেশে পাঠানো—সবই হয়, কিন্তু দ্বীন শেখানোর সময় হয় না।
এই প্রবণতা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা মানুষকে এমন এক মোহে ফেলে, যেখানে আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
গাফেলতার ফলাফল : আল্লাহ বলেন: “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন রাখে; যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও।”— সূরা তাকাসুর, আয়াত ১-২
এই আয়াতে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন, দুনিয়ার ধন-সম্পদের প্রতিযোগিতা মানুষকে এমনভাবে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে যে সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহকে ভুলে থাকে।
উত্তরণের পথ
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির প্রতি ভালোবাসা ইসলাম নিষেধ করে না। বরং এগুলোর হক আদায় করা, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ব্যবহার করা, সন্তানদের দ্বীনের পথে গড়ে তোলা—এসবই ইবাদত।
– ধন-সম্পদ দিয়ে যাকাত, সদকা, গরিবের সাহায্য করা
– সন্তানদের দ্বীন শেখানো, নামাজে অভ্যস্ত করা
– সময়মতো ইবাদত করা, কুরআন তিলাওয়াত করা
– দুনিয়ার মোহ থেকে নিজেকে রক্ষা করা
এইসব কাজ মানুষকে আল্লাহর স্মরণে অটল রাখে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে।
শেষ কথায় দোয়া
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির মোহ থেকে রক্ষা করুন। যেন আমরা এগুলোর মাঝে থেকেও আল্লাহর স্মরণে অটল থাকতে পারি এবং জান্নাতের পথে অগ্রসর হতে পারি। আল্লাহুম্মা আমীন।
শুক্র বার, ১১ জুলাই ২০২৫
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন










