আল্লাহ মানুষকে কখনো পরিত্যাগ করেন না

মিজানুর রহমান রানা :

জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ নানা ধরনের বিপর্যয়, দুশ্চিন্তা এবং হতাশার মুখোমুখি হয়। কখনো মনে হয়, যেন আমরা একাকী, কেউ আমাদের শুনছে না, জানছে না। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়—এমন সময়েই আমাদের সবচেয়ে বেশি কাছে থাকেন আল্লাহ ﷻ।

আল্লাহর করুণা: সীমাহীন ও অবিচল

কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তাঁর রহমতের আশ্বাস দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন:

“তোমরা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” —সূরা যুমার, আয়াত ৫৩

এই আয়াতটি যেন এক কাব্যিক আলিঙ্গন, যা মানুষকে তার ভুল-ত্রুটি, গুনাহ এবং একাকীত্বের ভিতরেও ভরসা দেয়—আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ফেলে দেন না।

আল্লাহর দয়া নিয়ে কোরআনে অনেক আয়াত আছে, তার একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী আয়াত হলো: “নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটে।”—সূরা আল-আ’রাফ (৭:৫৬)

এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর দয়া কেবল সীমাহীনই নয়, তা আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে — বিশেষত যাঁরা নেক আমল করেন, আল্লাহ তাঁদের কখনো একা রেখে দেন না।

আল্লাহ সুবহানওয়াতায়ালা মানুষকে শুধু দয়া প্রদর্শনে উৎসাহ দিয়েছেনই নয়, বরং এটিকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে তুলে ধরেছেন। নিচে একটি সুন্দর আয়াত দেওয়া হলো: “আর তোমরা সৎকর্ম করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।”—সূরা আল-বাকারা (২:১৯৫)

নবি (সা.)-এর সাহচর্যে আল্লাহর পরিপূর্ণতা

হাদিসে দেখা যায়, নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন: আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি দুনিয়ার চেয়ে বেশি দয়ালু।”—সহীহ বুখারী

প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতায়, চ্যালেঞ্জে, এমনকি পাপের মধ্যেও আল্লাহ মানুষকে ছেড়ে দেন না। বরং তিনি অপেক্ষায় থাকেন, যেন বান্দা ফিরে আসে।

যখন দুঃখ চেপে ধরে, তখনই আল্লাহ কাছে থাকেন

ইতিহাসে আমরা দেখি, নবী ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটে বন্দি ছিলেন, তিনি তখনো আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন:

আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয় আমি অন্যায় করেছি।” —সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৭

আল্লাহ তাকে পরিত্যাগ করেননি, বরং তাঁর দুঃখের সময়েই তাঁকে উদ্ধার করেন।

দোয়া: পরিত্যাগ নয়, সংযোগের মাধ্যম

দোয়া হলো বান্দা ও আল্লাহর সংলাপ। এমনকি যখন আমাদের মনে হয় আমরা দূরে, তখন দোয়া সেই দূরত্ব কমিয়ে আনে। কোরআনে আল্লাহ বলেন: “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”—সূরা গাফির, আয়াত ৬০

আমরা হয়তো দেরি করে ফেলি, ভুল করি, তবু আল্লাহ অপেক্ষায় থাকেন।

আত্মার শান্তি: আল্লাহর সান্নিধ্যে

যে আত্মা আল্লাহর স্মরণে থাকে, সেই আত্মা কখনো পরিত্যক্ত নয়। কোরআন বলে: আল্লাহর স্মরণে হৃদয় শান্ত হয়।” —সূরা রা‘দ, আয়াত ২৮

এই শান্তি কোনো বস্তুগত লাভ থেকে আসে না, আসে সম্পর্ক থেকে—মানুষ ও আল্লাহর সম্পর্ক।

আল্লাহ দেখেন ভিতরের আলো

মানুষ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু আল্লাহ ত্রুটি খুঁজে বেড়ান না—তিনি খোঁজেন মনোভাব। অন্তরের খোঁজ নেন, চাওয়া দেখেন। এটি এক অদ্ভুত সত্য: কেউ আমাদের ভুল বুঝলেও, আল্লাহ ঠিকই বুঝেন।

পরিণতির ভয় নয়, ক্ষমার আশ্বাস

মানুষের আচরণে আল্লাহ রাগান্বিত হন, কিন্তু তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ নন। বরং ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। হাদিসে বলা হয়েছে:

“যে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।”

তাই যখন আমরা নিজেকে নিঃসঙ্গ ভাবি, তখন স্মরণ করা উচিত—আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করতে ভালোবাসেন।

আল্লাহর ভালোবাসা: নীরব বিপ্লব

তিনি পরিত্যাগ করেন না কারণ তিনি সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা দিয়ে। প্রতিটি কান্না, প্রতিটি নিঃশ্বাস—তাঁর জ্ঞাত। তিনি আমাদের এমনভাবে চেনেন, যেমন আমরা নিজেকেও চিনতে পারি না।

আল্লাহর ভালোবাসা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়—এটি একটি জীবনদর্শন। এটি আমাদের শেখায়, যে সম্পর্ক সব সম্পর্কের ওপরে—মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে। তিনি কখনো থামেন না, কখনো মুখ ফিরিয়ে নেন না। আমাদের পথভ্রান্তি, দ্বিধা, ভয়—সবকিছুর মাঝেও তিনি আছেন, চুপচাপ, আড়ালে, পাশে।

রোব বার, ১৩ জুলাই ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy