শ্যামনগরে টানা বৃষ্টিতে আমনের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত

রনজিৎ বর্মন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে আমন ধানের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত ও চিংড়ী ঘেরের বেড়ী বাঁধ উপচিয়ে পানি লোকালয়ে।

সারা বাংলাদেশের ন্যায় শ্যামনগর উপজেলায় গত কয়েকদিন যাবত টানা বর্ষণে আমন ধানের বীজতলা ও আউশধান পানিতে ডুবে গেছে। অপরদিকে চিংড়ী চাষের প্রাধান্য এলাকা শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিংড়ী ঘের ডুবে ঘেরের বাঁধ উপচিয়ে পানি লোকালয়ে বা অন্য চিংড়ী ঘেরে চলে গেছে। এছাড়া টানা বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হুদা বলেন টানা বর্ষণে ফসল নিমজ্জিত দুর্যোগ কবলিত জমি হল ৭০ হেক্টর। উপজেলায় আবাদকৃত আউস ধান হল ১০৫ হেক্টর এর মধ্যে দুর্যোগ কবলিত জমি হল ৫ হেক্টর। আমন বীজতলা রোপন ২৫ হেক্টর। নিমজ্জিত হল ২০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রকার সবজি আবাদ হয়েছে ৬৫০ হেক্টর। নিমজ্জিত ৫০ হেক্টর।

উপজেলায় বাগদা চিংড়ী ঘের পানিতে নিমজ্জিত ৮৭৫ হেক্টর। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার তুষার মজুমদার জানান বাগদা চিংড়ী ঘেরের আয়তন উপজেলায় ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে পানিতে নিমজ্জিত ৮৭৫ হেক্টর। শতকরা হিসাবে ৫ ভাগ পানিতে নিমজ্জিত।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন টানা বর্ষণে মৎস্য ঘেরের অবকাঠামোগত ও মৎস্য সম্পদের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হল ৫০ লক্ষ টাকা। বাগদা চিংড়ী ঘের গুলি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার কারণ হিসাবে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার বলেন সরু ও মজবুত বাঁধ না থাকা ও নিম্ন বাঁধ।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল বলেন চলতি মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমান বেশি। বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায় ৮ জুলাই বৃষ্টিপাত ছিল ২৬ মিলিমিটার, ৭ জুলাই ছিল ২০ মিলিমিটার, ৬ জুলাই ছিল ১০ মিলিমিটার, ৫ জুলাই ছিল ৬ মিলিমিটার ও ৪ জুলাই ছিল ৪ মিলিমিটার। জুন মাসে সব মিলিয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ৫০ মিলিমিটার।

টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হয়েছে। আবাদচন্ডিপুর গ্রামের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন প্রচন্ড বর্ষায় কদমতলী খালে নেটপাটা থাকার কারণে সঠিকভাবে পানি সরতে নাপারায় রাস্তা ডুবে বাড়ির ভিতর থেকে বৃষ্টির পানি বের হতে সময় লাগছে।

ধানখালী গ্রামের বাসিন্দা খোকন বৈদ্য বলেন ধানখালী বিলে জলাবদ্ধতা থাকায় আমনের বীজতলা পানির নিচে ডুবে আছে।

এদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা ঃ রণী খাতুন উপজেলার ১২ ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছেন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি যাতে না হয় সেবিষয়ে লক্ষ্য রাখা, নদীতে যাদের নেটপাটা দেওয়া আছে স্বউদ্যোগে নেটপাটা অপসারণ করা এবং এবিষয়ে মাইকিং করা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে জলাবদ্ধতার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ও এলাকাবাসীকে পানি অপসারণে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

রোব বার, ১৩ জুলাই ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy