

সম্পাদকীয়
‘মাছে ভাতে বাঙালি’ এ প্রবাদটি আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু শহুরে ব্যস্ততা আর পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে আমাদের ঐতিহ্যবাহী দেশি মাছের ভাÐার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, যখন দেশজুড়ে নদ-নদী আর জলাশয়গুলো দূষণ ও অবৈধ দখলদারত্বের শিকার, তখন চাঁদপুরের এ উদ্যোগটি আশার আলো জাগায়।
গত ১৯ আগস্ট, প্রিয় সময়ে ‘চাঁদপুরে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, চাঁদপুরে যে ব্যতিক্রমী মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা’ কেবল একটি সরকারি আয়োজন নয়, বরং এটি একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ; যা’ আমাদের মৎস্যসম্পদ রক্ষার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি’ এই শ্লোগানটি কেবল কথার কথা নয়, এটি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি দৃঢ় প্রত্যয়।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়, প্লাবন ভ‚মি এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে রুই জাতীয় মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে। এ উদ্যোগটি বহুমুখী গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, এটি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করবে। যখন মাছের পোনাগুলোকে নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া হয়; তখন তাদের বংশবৃদ্ধি দ্রæত হয়; যা’ সামগ্রিকভাবে মৎস্যসম্পদকে সমৃদ্ধ করে। দ্বিতীয়ত, এ কর্মসূচি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন করে আয়ের উৎস তৈরি করবে। মাছের উৎপাদন বাড়লে তারা জীবিকা নির্বাহের জন্যে আরও বেশি সুযোগ পাবেন; যা’ তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
তবে এ উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা। দেশি মাছের সংরক্ষণ কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের জন্যেও অপরিহার্য। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেলে তার প্রভাব শুধু খাদ্যশৃঙ্খলেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি জলজ পরিবেশের পুরো ইকোসিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অভয়াশ্রম তৈরি করে এবং মাছের পোনা অবমুক্ত করে চাঁদপুর প্রশাসন এ বার্তা দিয়েছে যে, তারা শুধুমাত্র বর্তমানের কথা ভাবছে না; বরং আগামী প্রজন্মের জন্যে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও তারা বদ্ধপরিকর।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত জামিল সৈকত, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এবং সহকারী মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের এ সমন্বিত প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাদের এ আন্তরিক উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, যদি সরকারি দপ্তরগুলো পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে আন্তরিক হয়; তবে ছোট ছোট পদক্ষেপও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এ সফল কর্মসূচির মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে- আমাদের দেশের মৎস্যসম্পদকে বাঁচাতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সাধারণ মানুষ, মৎস্যজীবী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। চাঁদপুরকে একটি রোল মডেল হিসেবে গ্রহণ করে দেশের অন্য জেলাতেও এমন কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। এতে দেশি মাছের ভাণ্ডার শুধু রক্ষা হবে না; বরং তা আরও সমৃদ্ধ হবে।
সবশেষে বলা যায়, চাঁদপুরের এ উদ্যোগটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব আছে, তা’ আমরা ভুলে যাইনি। এটি একটি শুভ সূচনা, যা’ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতার জন্যে অপরিহার্য। আশা করি, এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটি আমাদের জীবনে সজীব ও বাস্তব হয়ে থাকবে।
মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫ খ্রি.
৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন








