বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই: জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে প্রতিরোধের দেয়াল

সম্পাদকীয়

প্রিয় সময়ে ‘কুড়িগ্রামে বাল্য বিয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরী পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ’ শিরোনামের একটি সংবাদ আমাদের সকলের দৃষ্টি আকষণ করেছে। এটি আমাদের সমাজের জন্যে অত্যন্ত জরুরী বিষয় বৈকি।

আমরা জানি, বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের একটি গভীর সামাজিক ব্যাধি, যা’ হাজার হাজার কিশোরীর জীবন কেড়ে নিচ্ছে, তাদের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরে বিনাশ করছে। দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তার অভাব- এসব কিছু মিলে বাল্যবিবাহের বিষবৃক্ষকে আমাদের সমাজে আরো শক্তভাবে প্রোথিত করেছে।

কিন্তু আশার কথা, এ সমস্যার বিরুদ্ধে এখন একটি নতুন এবং শক্তিশালী লড়াই শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রামের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরীদের পরিবারের অভিভাবকদের জন্য ‘দ্রæত আয় বৃদ্ধিমূলক’ এবং ‘ব্যবসা শুরু ও উন্নয়ন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন সেই লড়াইয়েরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি কেবল একটি প্রশিক্ষণ নয়, বরং একটি নতুন দর্শন, যা’ প্রমাণ করে যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাও অপরিহার্য।

ঐতিহ্যগতভাবে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে আইনি পদক্ষেপ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করার মধ্যে। নিঃসন্দেহে, এগুলো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সমস্যার মূল কারণটি হলো আর্থিক দুর্বলতা। অনেক পরিবারই দারিদ্র্েযর কারণে তাদের কন্যাদের বোঝা মনে করে, এবং যত দ্রæত সম্ভব তাদের বিয়ে দিয়ে দিতে চায়। এ আর্থিক অসহায়তা থেকে মুক্তি দিতে পারলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের মরাটারি ফেডারেশন হল রুমে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণটি সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে। আরডিআরএস বাংলাদেশের ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড (সিএনবি)’ প্রকল্পের এ উদ্যোগটি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা। কৃষি, মৎস্য ও ব্যবসা বিষয়ক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে জীবিকা নির্বাহের নতুন হাতিয়ার। যখন একটি পরিবার বুঝতে পারে যে, তাদের কন্যা সন্তান কেবল একটি বোঝা নয়, বরং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে, তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। এ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া অভিভাবকরা শুধু আর্থিক জ্ঞানই লাভ করছেন না, তারা তাদের সন্তানদের প্রতি একটি নতুন দায়িত্ববোধও অনুভব করছেন। তারা বুঝতে পারছেন, মেয়ের লেখাপড়া এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা মানেই ভবিষ্যতের জন্যে একটি নিশ্চিত অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা।

চার দিনের এ সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণটি একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। ২২ জন অভিভাবকের অংশগ্রহণ হয়তো খুব বড় সংখ্যা মনে নাও হতে পারে, কিন্তু এটি একটি মডেল, যা’ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। যদি এ ২২টি পরিবার সফলভাবে তাদের আয় বাড়াতে পারে এবং বাল্যবিবাহের পথ থেকে সরে আসতে পারে, তাহলে তারা তাদের সম্প্রদায়ের জন্যে রোল মডেল হয়ে উঠবে। এ সাফল্যের গল্পগুলো অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। একটি পরিবার যখন দেখবে যে, তাদের প্রতিবেশী তাদের মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে গিয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, তখন তারাও একই পথ অনুসরণ করতে উৎসাহিত হবে।

এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে হলে শুধু উপরি-উপরি ব্যবস্থা নিলেই হবে না, বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে তার মূল কারণটিকে নির্ম‚ল করতে হবে। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইনি ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং শিক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি হলো অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ এবং কুড়িগ্রামের এ প্রশিক্ষণ সেই লড়াইয়ে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক উদ্যোগ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে আমাদের সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ দূর করা সম্ভব। আসুন, আমরা সবাই মিলে এ ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করি এবং বাংলাদেশের প্রতিটি কিশোরীকে তার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেই। তাদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখি, তাদের জীবনকে সুন্দর করে তুলি। আমরা সেদিনের অপেক্ষায় থাকি।

বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫

 

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
————

You might like

About the Author: priyoshomoy