
রিমি আর সাগরের বিয়ে হয়েছে প্রায় আট বছর। প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে রিমির ভেতরে এক ধরনের অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হতে থাকে।
সাগর অফিস থেকে ফিরে সবসময় ক্লান্ত থাকতো। মুখ থেকে অদ্ভুত গন্ধ বের হতো, শরীর থেকেও আসতো অস্বস্তিকর ঘামের গন্ধ। রিমি বিষয়টি ইঙ্গিত করে একাধিকবার বললেও সাগর তেমন গুরুত্ব দিতো না। “ছোটখাটো ব্যাপার” বলে এড়িয়ে যেতো। কিন্তু সমস্যাটা শুধু শারীরিক ছিলো না। মানসিক দিক থেকেও সাগর ছিলো অবহেলাকারী। সংসারের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় রিমির মতামত চাইতো না। সে ভাবতো, রিমি সংসার সামলাবে, সন্তান দেখবে, তার বাবা-মায়ের যতœ নেবেÑএটাই যথেষ্ট। রিমিকে যেন মানুষ নয়, কেবল দায়িত্ব পালনের যন্ত্র হিসেবেই দেখতো।

এসব কারণে রিমির মনে জমতে থাকে অভিমান। স্বামীর কাছাকাছি এলে আকর্ষণের বদলে তার গা গুলিয়ে উঠতো। একদিন সে আর সহ্য করতে না পেরে সাগরকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলো, “তুমি হয়তো বুঝতে পারো না, কিন্তু তোমার শারীরিক যতœ না নেয়ার কারণে তোমার কাছাকাছি আসা আমার জন্যে যন্ত্রণার। তার থেকেও বড় সমস্যা হলো, তুমি আমাকে মানুষ বলে গণ্য করো না। আমি কি শুধু সন্তান জন্মদানের যন্ত্র, ঘরের কাজের মেশিন? আমারও অনুভ‚তি আছে, আমারও সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। তুমি যদি নিজেকে না বদলাও, তাহলে আমাকে মেরে ফেললেও আমি তোমার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবো না।”
কথাগুলো সাগরের হৃদয়ে বজ্রাঘাতের মতো লাগে। প্রথমে রাগ হয়, পরে একা বসে ভাবতে থাকে। সত্যিই কি সে এতোটা অবহেলা করেছে?
পরদিন থেকে সে ছোট ছোট পরিবর্তন আনে। নিয়মিত গোসল করে, ডেন্টিস্টের কাছে যায় মুখের গন্ধের জন্যে, ব্যায়াম শুরু করে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে তার মানসিকতায়Ñরিমির মতামত শোনে।
সময়ের সাথে সাথে অদৃশ্য দেয়ালটা ভাঙতে শুরু করে। রিমি নতুন করে স্বামীকে আবিষ্কার করে, আর সাগর বুঝতে শেখেÑসংসার মানে কেবল দায়িত্ব নয়, পারস্পরিক সম্মান আর ভালোবাসার চর্চা।
রোববার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫













