

নির্বাচন মানেই, ভোট যুদ্ধ, মতের লড়াই ও আদর্শের প্রতিযোগিতা। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় সেই প্রতিযোগিতা রূপ নিয়েছে প্রতিহিংসার। একদল আরেক দলকে নির্বাচনে পরাজিত করার বদলে ব্যক্তিগতভাবে গায়েল করতে ব্যস্ত। প্রশ্ন উঠছে-এবার নির্বাচন আসলে কোন দিকে যাচ্ছে?
রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, বিরোধিতা থাকাটাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু যখন বিরোধিতা গালাগালিতে রূপ নেয়, যুক্তির জায়গা নেয় বিভিন্ন অপপ্রচার, তখন নির্বাচন আর উৎসব থাকে না, ভয় আর বিভাজনের প্রতীক হয়ে ওঠে। মাঠের রাজনীতি এখন আর জনগণের কথা বলার জায়গা নয়, বরং কে কাকে দোষারোপ এবং গায়েল করবে তার প্রতিযোগিতা।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, জনগণের নিত্যদিনের সমস্যা দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এসব ইস্যু ক্রমেই পেছনে পড়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্যে উন্নয়ন পরিকল্পনার চেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে কে দেশবিরোধী, কে ষড়যন্ত্রকারী। এতে ভোটার বিভ্রান্ত হয়, আস্থাহীনতা বাড়ে।
নির্বাচন যদি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হয়, আর গণতন্ত্র যদি কেবল স্লোগানে বন্দি থাকে, তাহলে সেই নির্বাচন দেশের জন্য আশার নয়। সুস্থ রাজনীতির জন্য দরকার দায়িত্বশীল ভাষা, সহনশীল আচরণ এবং জনগণকে সম্মান করার মানসিকতা। প্রতিপক্ষ মানেই শত্রু এই ধারণা থেকে বেরোতে না পারলে রাজনীতি কখনোই গণমুখী হবে না।
এই সময়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাজনৈতিক দলগুলো কি বুঝতে পারছে জনগণ কী চায়? জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার, নিরাপদ ভবিষ্যৎ। গায়েল করার রাজনীতি দিয়ে সেই চাহিদা পূরণ হয় না। হয় শুধু ক্ষোভ জমা, অবিশ্বাসের দেয়াল উঁচু।
নির্বাচন কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে রাজনীতির ভাষা ও আচরণের ওপর। প্রতিহিংসার পথে হাঁটলে ফলাফল হবে অস্থিরতা। আর যদি যুক্তি, দায়িত্ববোধ আর সম্মানের পথে ফেরা যায়, তবেই নির্বাচন হতে পারে গণতন্ত্রের সত্যিকারের উৎসব।
মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি, সম্পাদক, সাপ্তাহিক পাঠক সংবাদ
প্রকাশিত : বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.














