আদেশ অমান্য করে যোগদান করেননি শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিকে দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ভয়ভীতির অভিযোগ

মোঃ শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দুর্গম “দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সংযুক্তির আদেশ জারির পরও এক শিক্ষক নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায় সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস একই সঙ্গে পাঠদান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেন। তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে বিদ্যালয়টি শিক্ষকশূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন সাময়িকভাবে দুইজন সহকারী শিক্ষককে সংযুক্তি দেওয়া হয়।

সংযুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ২৯ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রামদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পারভীন আক্তার এবং শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ মহসিন কবিরকে দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী ১ জুলাই পারভীন আক্তার যোগদান করেন কিন্তু শেখ মহসিন কবির এখনও কর্মস্থলে যোগ দেননি। ফলে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমার ছুটি শেষ হতে আরও প্রায় দুই মাস বাকি। বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই নাজুক। বাড়ি বাড়ি গিয়েও শিক্ষার্থী আনতে পারিনি। এই বিদ্যালয়ে অন্তত একজন পুরুষ শিক্ষক পদায়ন খুবই প্রয়োজন। দুর্গম এলাকায় একজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালানো সম্ভব নয়।

যোগদান না করার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মহসিন কবির বলেন, এর আগেও আমাকে ওই বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসের মৌখিক অনুমতি নিয়ে যোগদান না করার কথা বললেও পরে বলেন, শাহাপুর থেকে দক্ষিণ আমজোড়ার দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। সেখানে যেতে যেতে সকাল ১০টা বেজে যায়। লজিংয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মহসিন কবির বলেন, না, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এক আঙ্কেলকে দিয়ে শুধু রিকোয়েস্ট করিয়েছিলাম।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, আমাকে এবং শেখ মহসিন কবিরকে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমি ১ জুলাই যোগদান করেছি। কিন্তু তিনি এখনও যোগদান করেননি। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থেকেই গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে বিদ্যালয়টি যাতে শিক্ষকশূন্য না হয়, সে জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুইজন শিক্ষককে সংযুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু শেখ মহসিন কবির এখনও যোগদান করেননি। বিষয়টি (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) ডিপিইও স্যারকে অবহিত করেছি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমাকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোরও চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস বলেন, আমাকে না জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানান।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি নির্দেশ অমান্যের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত : বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :

.

You might like

About the Author: priyoshomoy