মাদারীপুরে হাইটেক পার্ক নির্মাণস্থলে সরকারের টাকা লোপাটের তৎপরতা অবশেষে বন্ধ

স্থানীয়দের বক্তব্যে ফুটে উঠলো দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র

 

মাজহারুল ইসলাম (রুবেল), মাদারীপুর, প্রতিনিধি :

মাদারীপুরে হাইটেক পার্ক নির্মাণস্থলে সরকারের টাকা লোপাটের তৎপরতা অবশেষে বন্ধ হলো। এ বিষয়ে অভিযানের পর মাদারীপুরে হাইটেক পার্কের নির্ধারিত স্থান থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রাই। এর মধ্যে ৬ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ হলেও রয়ে গেছে মিনি সুন্দরবন।

সরকারের ২ শ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

লতিফ মিয়া পেশায় কাঠমিস্ত্রী । বসত বাড়ি প্রকল্পর পাশের ইউনিয়ন কাঠালবাড়িতে। দালাল চক্রের প্ররোচনায় চৌচালা ঘর করেন জেলার শিবচরের কুতুবপুরের শেখ হাসিনা ইনষ্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এন্ড হাইটেক পার্কের নির্ধারিত স্থানে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবরে তড়িঘড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অবৈধ স্থাপনা।

প্রকল্প এলাকার পাশের গ্রাম থেকে ঘর বানানো সাবিনা আক্তার অভিযানের শুরুতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘরটি বসবাস উপযোগী দেখাতে ব্যর্থ হন। সাবিনার বসত ঘর রান্না ঘর তোলা থাকলেও সেগুলোর ভেতরে ছিল ফাকা শুন্য। যে কেউ দেখলেই বুঝবে এটি শুধুই সরকারের টাকা লোপাটের একটি তৎপরতা। এভাবেই শত শত ঘরসহ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল প্রকল্প এলাকায়। আর এখনো গাছের বাগান দেখলে মনে হবে এ যেন মিনি সুন্দরবন। প্রশাসনের অভিযানের পর এ পর্যন্ত সাড়ে ৬ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও কয়েক শ গাছ পালা উচ্ছেদ হয়েছে । স্থানীয়রাই এখন অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা ও গাছ পালা অপসারন হলে এ প্রকল্পে সরকারের ২ শ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হবে বলে জেলা প্রশাসক দাবী করেন। শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশে জেলার শিবচরের কুতুবপুর ও কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের কেশবপুরে আইসিটি মন্ত্রনালয় শেখ হাসিনা ইনষ্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এন্ড হাইটেক পার্ক নির্মাণে ৭০.৩৪ একর জায়গা নির্ধারণ করে। এরপর থেকেই গত বেশ কিছু দিন ধরে নির্ধারিত এই স্থানে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় দালালচক্র ওই এলাকায় অবৈধ ঘর বাড়ি বাগান খামার স্থাপন শুরু করে।

সম্প্রতি আইসিটি মন্ত্রনালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি হুকুম দখলের প্রস্তাব করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় অবৈধ ঘর বাড়ি বাগান খামার স্থাপন আরো বেড়ে যায়। দালালচক্র পদ্মা সেতুর বিভিন্ন প্রকল্পে ক্ষতিপূরন পাওয়া ঘরবাড়ি এ প্রকল্পে আবারো স্থাপন করে অপতৎপরতা শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে বারবারের সংসদ সদস্য চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে ১৮ জানুয়ারি ওই এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়ে সভার আয়োজন করে ৭দিনের সময় বেধে দেয় জেলা প্রশাসন।

এরপর ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনীর সদস্য প্রকল্প এলাকায় অভিযান শুরু করে। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের অভিযানে আড়াই শতাধিক অবৈধ ঘরবাড়ি শত শত উচ্ছেদ করা হয়। এরপর এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা নজরদারিতে রেখেছেন।
দুর্নিতীর নানান তথ্য তুলে ধরেন স্থানীয়রাই। তারা দালালদের বিচার চান।

একটি শক্তিশালী দালাল চক্র পদ্মা সেতু ও বিভিন্ন প্রকল্প ঘিরে সক্রীয় হয়েছে এ এলাকায়। চক্রটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু না করলে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট বন্ধ সম্ভব হবে না বলে পদ্মা পাড়ের মানুষ দাবী করেন।

You might like