
আমি আমার চেয়ে আলাদা কিছু নই আমারও শরীরে রয়েছে মাংসপিন্ড এক
যাকে তোমরা ‘হৃদয়’ দিয়েছো নাম ভালোবেসে।
আমি নই কিন্তু হৃদয় সে তো যেতে পারে শূন্যতায় -সীমানার অধিক কোনো দূরে
এ হদয়ে রক্তের মতোন লাল লাল
উপমাময় স্রোতোস্বিনী ক্ষত আছে
-আছে শিরা উপশিরা -মিশে আছে
সোনালি অসুখ-
অদম্য নিশাচার।
এ হৃদয় ছলনা জানে না,নেই
মাথা নোয়াবার সাধ,ওকে আর
প্রাসাদে ডেকো না, ভুল হবে,বোলো না-
দুধের মাছি হয়ে কাটাতে প্রহর –
যেরকম বসন্ত ফুরোলে
মানুষেরা লৌকিক সম্পর্ক- সুতোয়
কালিমা লেপে
কেটে পড়ে।

এ হৃদয় অভিমানী খুব কেননা সে
জেনে গেছে -বধুরা বরের ঘরে থাকে
তবু বরের জন্যে থাকে না কোনোদিন!
সভ্যতার অযাচার,বঞ্চনার, তুচ্ছতার
মহিরূহ ভেঙে দিয়ে সে তো মানুষেরই প্রেমের নির্দলীয় বন্টন
বেটে দিতে
বাড়িয়েছে পা;
তাকে ফিরিয়ে দিও না, বোলো না –
চলে যেতে – বড়ো অবেলায় এলে হে
দেরি হয়ে গেছে!
সময়ের মৌনতায় আপোষী সংঘতায়
ছড়াতে চেয়েছে সে তো
দ্রোহেরই আগুন
সে তো দিনশেষে খুঁজে খুঁজে
হারিয়েছে নিজেরই পায়ের নিচে মাটি।
তবু তাকে ফেরাতে চাও কেনো
যেখানে জেগে রয় গার্হস্থ্য অসুখ
জেগে রয় আত্মার অনন্ত প্ররোচনা –
মোহ আর মোহন রমণীয় সুখ!
তাকে তবে ফিরে নাও দগ্ধ আত্মার পোড়াগন্ধের কাছে – যেখানে নেই
ঘুমন্ত বাসনার চেরাবালি, আছে
নিজেকে নিজের কাছ থেকে
সরিয়ে রেখে বেদনায় নিঃস্বতায়
মানুষেরই কাছে ফিরে আসা।










