

শূন্য মানে হলো-এটি কোনো কিছুর অনুপস্থিতি বা নির্জনতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, গাণিতিকভাবে শূন্য একটি সংখ্যা; যা’ অন্যান্য সংখ্যার সাথে যোগ বা বিয়োগ করলে মানের কোনো পরিবর্তন করে না। কিন্তু কোনো সংখ্যাকে শূন্য দিয়ে গুণ করলে তার মান শূন্য হয়ে যায়। সাধারণভাবে আমরা চিন্তা করলে দেখবো যে, কোথাও ফাঁকা বা অনুপস্থিতি বা কিছুই নাই এমন কিছু উপলব্ধি করতে পারি। যেমন-একটি শূন্য ঘর, বা শূন্য থালা। কিন্তু পবিত্র বাইবেলের সৃষ্টির শুরুতে কিছুই ছিলো না (আদিপুস্তক ১:২)। কোনো কিছু না থাকা বলতেই শূন্য বোঝায় (যিরমিয় ৪:২৩)। আসলে বাস্তবে শূন্যের কোনো অস্তিত্ব নেই (অথাৎ সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী ছিল অস্থির, অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং বিশৃঙ্খল একটি অবস্থা, যা’ পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বর্তমান রূপে এসেছে)। সাধারণভাবে কোনো অবস্থানে কিছুই না থাকাটা আমরা বুঝি (যিহিষ্কেল ৪১:১১)।
আমাদের জীবনে আমরা পূণতা আশা করি; শূন্য হয়ে যাওয়া আমরা প্রত্যাশা করি না। কিন্তু পাপের কারণে আমাদের জীবনে অনেক কিছু শূন্য হয়ে যেতে পারে (যিরমিয় ৪৮:১২)। আমরা অনেক কিছু পাওয়ার প্রত্যাশী হলেও আমাদের নাই হয়ে যায়। যারা ভুল বা পাপ করার পর সেই পাপ থেকে ফিরে আসে না এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে না; তাদের জীবনে শূন্যতা চলে আসে। পাপের কারণে ঈশ্বর প্রদত্ত জীবনধারণের উপায় বা জীবিকা সংকুচিত হয় ও জীবনের উন্নতি শূন্য হয়ে পড়ে। আর এটি কেবল খাদ্য বা সম্পদ নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, জ্ঞান, সন্তান এসব ক্ষেত্রেও। কেননা আমাদের জীবনের সবকিছু ঈশ্বর হতেই আসে; আর তা’ ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু। আর্থিক সচ্ছলতা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ইত্যাদি বস্তুগত বিষয়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা-যা’ ছাড়া জীবন ধারণ কঠিন। জ্ঞান, যা মানুষকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে। এটা আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, পাপের কারণে ঈশ্বর মানুষের জীবন থেকে আশীবাদ উঠিয়ে নেন এবং তার সবকিছু সংকুচিত করে দেন। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবনে খাদ্যাভাব, অভাব-অনটন ও দারিদ্রতার মূল কারণ আমাদের পাপ।

ঈশ্বর যাকে রক্ষা করেন, যারা ঈশ্বরের উপর ভরসা করে বেঁচে থাকে-তাদের কেউ ক্ষতি করতে পারে না। তাদের সমস্ত বিপদ-আপদ থেকেই রক্ষা করে থাকেন। যোষেফকে তার ভাইয়েরা গর্তে ফেলে দিয়েছিলো। কিন্তু ঈশ্বর তাকে রক্ষা করলেন (আদিপুস্তক ৩৭:২৪)। সেই গর্ত শূন্য ছিলো, তাহাতে জল ছিলো না। এটাই ঈশ্বরের পরিকল্পনা। আর এভাবেই ঈশ্বর তাঁর সন্তানকে রক্ষার উপায় দিয়ে থাকেন।
অনেকসময় পূর্ণতার জন্যে শূন্য করতে হয়; কেননা শূন্য না করলে পূর্ণ করা যায় না (লেবীয় পুস্তক ১৪:৩৬)। অশুচি থেকে রক্ষার জন্যে আমাদের শূন্য করারও প্রয়োজন রয়েছে। যেন ঈশ্বর আমাদের অন্তর দেখতে পান। অতএব, শূন্য হওয়ার প্রয়োজন ও গুরুত্ব দেয়া উচিত (যিশাইয় ২৯:৮)। আর বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শূন্য করা বা হওয়া আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে (বিচারকর্তৃগণ ৭:১৬)। আবার জীবনের কোনো কোনো ক্ষেত্রে শূন্যতা আমাদের জন্যে অসহায় অবস্থার সূচনা করে (বিচারকর্তৃগণ ৫:৬)। তেমনটা আমরা কেউ প্রত্যাশা করি না।
আমরা জীবনে শূন্যতা প্রত্যাশা করি না। পবিত্রশাস্ত্রের অনেক স্থানে শূন্য হয়ে ফিরে আসার অনেক উদাহরণ রয়েছে। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই, শূন্যতায় ফিরে আসার কষ্টকর মুহূত্যগুলো। যিরমিয় ১৪ অধ্যায় ২ থেকে ৬ পদে আমরা শূন্যতার দুঃখ বা হাহাকার দেখতে পাই যে, ‘যিহূদা শোক করিতেছে, তাহার নগরদ্বার সকল জীর্ণ হইতেছে, সেই সকল মলিন বেশে ভ‚মিতে বসিয়া আছে; আর যিরূশালেমের আর্তরব ঊর্ধ্বে উঠিতেছে। তাহাদের প্রধানেরা আপন আপন অধীনদিগকে জলের জন্য পাঠায়; তাহারা গর্ত সকলের নিকটে আসিয়া কিছুমাত্র জল পায় না, শূন্য পাত্র হস্তে করিয়া ফিরিয়া যায়; তাহারা লজ্জিত ও বিষণœ হইয়া মস্তক ঢাকিয়া রাখে। দেশে বৃষ্টি না হওয়াতে ভ‚মি নিরাশ হইয়াছে বলিয়া কৃষকেরা লজ্জা পাইয়া আপন আপন মস্তক ঢাকিয়া রাখে।এমন কি, তৃণ নাই বলিয়া হরিণীও মাঠে প্রসব করিয়া শিশু ত্যাগ করিয়া যায়। বনগর্দভ সকল বৃক্ষশূন্য গিরিতে দাঁড়াইয়া শৃগালের ন্যায় বায়ুর জন্য হাঁপায়; তৃণাদি না থাকাতে তাহাদের চক্ষু ক্ষীণ হইয়াছে।’
আমাদের ব্যক্তি জীবনে শূন্যতার দুঃখ আমাদের নিরাশ করে। হতাশায় আমরা হাতরাতে থাকি। জীবনে শূন্যতা যে আমাদের কতোটা অন্ধকারে নিমজ্জিত করে এবং আমাদের আশা-আকাক্সক্ষা সব শেষ করে দেয়। তখন আমরা পরিপূর্ণ না হওয়ার জন্যে সদাপ্রভুকেই দোষারোপ করে থাকি। আমাদের জীবনযাত্রা সদাপ্রভুর মহিমায় পরিপূর্ণ হয়ে যাত্রা করে; এ গতিময়তা আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু একসময় আমাদেরই পাপের কারণে তা’ হারিয়ে যায়। তখন শূন্য হয়ে আমাদের ফিরে আসতে হয়। তখনই আমরা সদাপ্রভুকে দোষারোপ করতেও দ্বিধা করি না। কেননা তখন আমাদের পাপের জন্যে সদাপ্রভু আমাদের নিগ্রহ করেন (রূতের বিবরণ ১:২১)। সতিক্যকারে পরিপূণতা থেকে যখন শূন্যতায় আমরা চলি, তখন আমরা কষ্টকর জীবন অতিবাহিত করি। পৃথিবীতে আমরা যখন অবাধ্যতায় বিপথগামী হই, তখন আমরা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে অসার ও শূন্য হই। তিনি আমাদের অসার ও শূন্য জ্ঞান করেন (যিশাইয় ৪০:১৭)। যখন ঈশ্বর কোনো কিছু ধ্বংস করেন বা সবকিছু শূন্য করে দেন, তখন পরিস্থিতি কেমন হতে পারে; যা ধ্বংস, বিলুপ্তি, বা সবকিছু হারিয়ে যাওয়া বোঝাতে পারে। যখন কোনো ব্যক্তি বা জাতির জীবনে সবকিছু ভেঙে পড়ে; আমাদের অন্তরও শূন্য করে থাকেন (যিশাইয় ১৯:৩)। ঈশ্বর যদি সবকিছু ধ্বংস করে দেন, তবে সেই অবস্থা হবে শূন্যতা। অনেক সময় ঈশ্বর কোনো ব্যক্তিকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন, যা তার কাছে শূন্যতার মতো মনে হতে পারে। আবার, সবকিছু ধ্বংস করে ঈশ্বর নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন, যা একটি নতুন শুরুর প্রতীক হতে পারে। তাছাড়া ঈশ্বর আমাদের সকলের জন্যেই আশীবাদ রেখেছেন; আমরা যেন কোনোভাবেই অধিকারের দিক থেকে শূন্য না হই ( যিশাইয় ৬:১২)।
আমরা বাইবেলের যোনাথন ও দায়ূদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিলো। ফলে যোনাথন দায়ূদের বিপদের সময় সাহায্য করেছিলেন; যখন দায়ূদ শূন্য ছিলেন (১ শমূয়েল ২০:১৮)। সত্যিকারে শূন্যতা আমাদের দিশেহারা করে দেয়। তখন আমাদের অন্যের (বা ঈশ্বরের) সাহায্যের দরকার হয়। হ্যাঁ, শূন্যতা অনেক সময় মানুষকে দিশেহারা করে তোলে। জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলে গেলে বা কিছু না থাকার অনুভ‚তি থেকে এই শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি এক ধরনের মানসিক অবস্থা যা মানুষকে হতাশ, বিচলিত এবং বিভ্রান্ত করে তোলে। জীবনে শূন্য হলে অনেকেই অবহেলা করবে, ধমক দিবে, দূরে দূরে থাকবে; কিন্তু সদাপ্রভুই আমাদের শূন্যতা থেকে রক্ষা করেন। আমরা দেখি যে, দায়ূদের স্থানটিও শূন্যই ছিলো (১ শমূয়েল ২০:২৫)।
ঈশ্বরের আশীর্বাদে কেউ শূন্য হয় না। অর্থাৎ ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কৃপায় কেউ সম্পূর্ণরূপে নিঃস্ব বা অসহায় থাকে না। তার আশীর্বাদ সবসময়ই কারো না কারো মাধ্যমে, বা কোনো না কোনোভাবে প্রকাশিত হয়। ঈশ্বরের কৃপায় মানুষ সবসময়ই কোনো না কোনো রূপে সাহায্য ও সমর্থন পায়, যা তাকে জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে ও এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। যেমন-কেউ হয়তো কঠিন রোগে আক্রান্ত, কিন্তু তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে সমর্থন ও ভালোবাসা পায়। কেউ হয়তো কর্মজীবনে ব্যর্থ, কিন্তু তার আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তি তাকে নতুন করে শুরু করতে সাহায্য করে। কেউ হয়তো নিঃস্ব, কিন্তু তার জীবনে এমন মানুষ আসে যারা তাকে সাহায্য করে। সুতরাং, ঈশ্বরের আশীর্বাদ সবসময়ই কারো না কারো মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং কাউকে সম্পূর্ণরূপে শূন্য করে দেয় না। রবি ঠাকুর বলেছিলেন-পৃথিবীতে কাহারও অভাবে অধিক দিন কিছু শূন্য থাকে না। সত্যিই তো! আজ অবধি দেখি নাই; কেউ জীবন থেকে হারিয়ে গেলে কারো জীবন তার জন্য মন্থর হয়ে গেছে! শূন্যস্থান কোনো না কোনো সময়ে ঠিকই পূরণ হয়। কত ভালোবাসা, মনের টান, কত স্মৃতি উপেক্ষা করে মানুষ দিব্যি ভালো থাকে। হ্যাঁ, ঈশ্বর যেখানে সহায় হোন, সেখানে অভাব হয় না। পবিত্রশাস্ত্রের ইলিয়ের জীবন থেকে আমরা এ বিষয়ে আরো বেশি উপলব্ধি করতে পারি। ১ রাজাবলি ১৭:১৬ পদে রয়েছে, ‘সদাপ্রভু এলিয়ের দ্বারা যে বাক্য বলিয়াছিলেন, তদনুসারে ঐ ময়দার জালা শূন্য হইল না, তৈলের ভাঁড়ও শুকাইল না।’ আমরা জানি, এলিয় ধার্মিক ছিলেন। আর সদাপ্রভুতে যারা নিভরশীল তারা কখনো অনাহারে থাকে না। তাদের জন্যে ঈশ্বর খাবারের যোগান দিয়ে থাকেন। কিন্তু যারা দুষ্ট তাদেরই উদর শূন্য থাকে। হিতোপ ১৩:২৫ পদে রয়েছে, ‘ধার্মিক প্রাণের তৃপ্তি পর্যন্ত আহার করে, কিন্তু দুষ্টদের উদর শূন্য থাকে।’ ঈশ্বরই আশীবাদের প্রতিজ্ঞা করেন ধামিকের জন্যে। ১ রাজাবলি ১৭:১৪ পদে রয়েছে, ‘কেননা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা কহেন, যে দিন পর্যন্ত সদাপ্রভু ভ‚তলে বৃষ্টি না দেন, সেই দিন পর্যন্ত তোমার ময়দার জালা শূন্য হইবে না, ও তৈলের ভাঁড় শুকাইয়া যাইবে না।’ আর দুষ্টের কাজ দুষ্টতার কাজ করা এবং অন্যের পূণতা নষ্ট করে শূন্য করা (যিশাইয় ৩২:৬)। কিন্তু ঈশ্বর রক্ষা করেন।
শূন্য দৃশ্যমান হলে মানুষের মনে প্রশ্ন জেগে উঠে; এটা স্বাভাবিক (১ শমূয়েল ২০:২৭)। তাছাড়া শূন্যতার চেয়ে পূণতায় আত্মতৃপ্তি হয়। অন্তর থেকে উপহারে শূন্যতা দূর হয় এবং তা’ ঈশ্বরের আশীবাদ। ১ শমূয়েল ৬:৩ পদে রয়েছে, ‘তাহারা কহিল, তোমরা যদি ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুক পাঠাইয়া দেও, তবে শূন্য পাঠাইও না, কোন প্রকারে দোষার্থক উপহার তাঁহার কাছে পাঠাইয়া দেও; তাহাতে সুস্থ হইতে পারিবে, এবং তোমাদের হইতে তাঁহার হস্ত কেন অন্তর্হিত হইতেছে না, তাহা জানিতে পারিবে।’ নহিমিয় ৫:১৩ পদে রয়েছে, ‘আবার আমি আপন কোলের কাপড় ঝাড়িয়া কহিলাম, যে কেহ এই প্রতিজ্ঞা পালন না করে, ঈশ্বর তাহার গৃহ ও পরিশ্রমের ফল হইতে তাহাকে এইরূপ ঝাড়িয়া ফেলুন, এইরূপে সে ঝাড়া ও শূন্য হউক। তাহাতে সমস্ত সমাজ কহিল, আমেন, এবং সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করিল। পরে লোকেরা সেই প্রতিজ্ঞানুসারে কর্ম করিল।’ আর সদাপ্রভু ঈশ্বর শূন্যতা পূণ করে থাকেন। প্রভুররূপে দিয়ে থাকেন আশীবাদ; যাতে উপচিয়া পড়ে (২ রাজাবলি ৪:৩)। আবার দুষ্টরা শান্তিতে বাস করতে পারে না। ঈশ্বর তাদের শান্তি শূন্য করে করেন; তাদের নিবাসে কেউ বাস করে না (গীত ৬৯:২৫)। যিরমিয় ১০:২৫ পদে রয়েছে, ‘ঢালিয়া দেও তোমার কোপ সেই জাতিগণের উপরে, যাহারা তোমাকে জানে না; সেই গোষ্ঠী সকলের উপরে, যাহারা তোমার নামে ডাকে না; কেননা তাহারা যাকোবকে গ্রাস করিয়াছে, গ্রাস করিয়া সংহার করিয়াছে, তাহারা তাহার বাসস্থান শূন্য করিয়াছে।’
জ্ঞান শূন্য মানুষ বোঝাস্বরূপ সবত্র। কেননা যার মধ্যে জ্ঞান নেই, সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। সে সবস্থানেই সমস্যার সৃষ্টি করেন। কেননা সে কোনো বিষয় সম্পর্কে কিছুই না জানে, তবে বলা যায় যে তার সেই বিষয়ে জ্ঞান শূন্য। উপ ১০:৩ পদে রয়েছে, ‘আবার পথে চলিবার সময়েও অজ্ঞানের হৃদয় শূন্য, আর সে প্রত্যেক জনকে বলে যে, সে অজ্ঞান।’
কাউকে শূন্য করার চেষ্টা করা কারো নৈতিকতা হতে পারে না। এটা জ্ঞানশূন্যতারই কাজ। এর অথ হলো-অনেকসময় দুষ্টলোক একজনকে সম্পূণরূপে ধ্বংস করতে চায়-এটা অমানবিক। গীত ৭৯:৭ পদে রয়েছে, ‘কেননা তাহারা যাকোবকে গ্রাস করিয়াছে, তাহার বাসস্থান শূন্য করিয়াছে।’ এমন পরিস্থিতি থেকে ঈশ্বর যেন আমাদের রক্ষা করেন। যিশাইয় ২৪:১ পদে রয়েছে, ‘দেখ, সদাপ্রভু পৃথিবীকে শূন্য করিতেছেন, উৎসন্ন করিতেছেন, উল্টাইয়া ফেলিতেছেন ও তাহার নিবাসীদিগকে ছড়াইয়া ফেলিতেছেন।’ যিরমিয় ১০:২৫ পদে রয়েছে, ‘ঢালিয়া দেও তোমার কোপ সেই জাতিগণের উপরে, যাহারা তোমাকে জানে না; সেই গোষ্ঠী সকলের উপরে, যাহারা তোমার নামে ডাকে না; কেননা তাহারা যাকোবকে গ্রাস করিয়াছে, গ্রাস করিয়া সংহার করিয়াছে, তাহারা তাহার বাসস্থান শূন্য করিয়াছে।’
আমাদের মৃত্যু একদিন হবেই-নিশ্চিত। এটা আমরা কেউ অস্বীকারকরতে পারি না। চিকিৎসকরা আসলে মানুষকে আরোগ্য করতে পারে না এবং তারা ক্ষমতাহীন আর মৃত্যুর থাবা থেকে কাউকে রক্ষা করতে অক্ষম। আর মানুষ অর্জনের জন্যে সারাটা জীবন ব্যয় করে; কিন্তু নিজের সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারবে না। কেননা ধনসম্পদ অর্জনের জন্যে শক্তি ব্যয় করা সময়ের অপচয়মাত্র। মৃত্যুর পরে মানুষ খালি ও শূন্য হাতে এ পৃথিবীতে আসে; আবার শূন্য হাতেই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে। এটা স্বীকার কতেই হবে যে, শূন্য হাতেই এসেছি; যা’ পেয়েছি, তা’ অনেক।
শূন্য হাতে পৃথিবীতে আসা/শূন্য হাতে চলে যেতে হয়;
মায়াজালে ঘেরা পৃথিবীতে/ কে’বা কার আপন হয়।
মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
১৪ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন











