

কবিতা
বহুদিন ধরে বুকের গভীরে যে আলো পুষেছি ভালোবাসায়,
এ পথের শেষে একদিন পাবো, বেঁচে ছিলাম তো সেই আশায়।
নয়ন মেলে যেদিকেই তাকাই, সে আলোর খোঁজে যেতাম ছুটে,
ভেবেছিলাম এ জীবনের যত আনন্দ বুঝি সেখানেই ফোটে।
রাত কেটে গিয়ে সকাল হলো, কাটলো কতো যে দীর্ঘ মাস,
অভিমানের সে ভারী মেঘে জমেছিল কতো দীর্ঘশ্বাস।

হৃদয় উজাড় করে দেওয়া ভালোবাসা ছিলো যার জন্যে জমা,
প্রতীক্ষার এই নীরব পথ ধরে চায়নি সে তো কোনো ক্ষমা।
একা একা বসে কত রাত জেগে ভেবেছি তার কথা কতোটা,
নীরবে সয়েছি দীর্ঘ বিরহ, বুক কেঁপে ওঠেনি তো এতোটা।
সময় তো কারো থামেনি কখনো, এগিয়ে গিয়েছে নিজস্ব ছন্দে,
মনের গভীরের সে রঙিন সুর কেঁদে মরেছিল গভীর দ্বন্দ্বে।
হঠাৎ একদিন আলোটা এলো, যা আমি চেয়েছিলাম খুব পেতে,
হাতে এসেও সেই কাক্সিক্ষত জিনিস ধরা দিলো এ জীবনে শেষমেশ এসে।
কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম আমি, মনে তো জাগেনি কোনো উল্লাস,
নীরবতায় ঢেকে গিয়েছে মন, যেন শেষ হয়ে গেছে জীবনের সব শ্বাস।
সব সয়ে সয়ে ক্লান্ত যে মন, হারিয়েছে তার ব্যাকুলতা,
অপেক্ষার সে প্রহরগুলো আজ বলছে কেবল কষ্টের কথা।
এতো দিন পরে প্রাপ্তির মাঝে আর তো অবশিষ্ট নেই কোনো স্বাদ,
ভালোবাসার বদলে সেখানে শুধুই জমেছে গভীর এক অবসাদ।
সব পাওয়াও যে মিছে হয়ে যায়, সময়টা যদি পেরিয়ে যায়,
মনের ইচ্ছাগুলোও তো একদিন জমে থাকা ধূলায় হারিয়ে যায়।
আগ্রহ আজ ফুরিয়ে গেছে, নেই কোনো চাওয়া আর পাওয়ার মায়া,
ইচ্ছেরা সব মরে গিয়ে যেন পড়ে আছে শুধু ধূসর এক ছায়া।
পাচ্ছিস যা আজ, তা পেয়েও যে মন আর তো হাসবে না কোনোদিন,
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পর সবই হয়ে যায় অনুভূতিহীন।
অপেক্ষা কেবল ক্লান্তই করে, মেটায় না আর হৃদয়ের তৃষা,
পছন্দের জিনিসও হারায় আলো, নামলে মনেতে অন্ধ নিশা।
সব আশা আজ চুপ করে গেছে, ইচ্ছাগুলোও ঘুমিয়ে পড়েছে দূরে,
জীবন যে এখন বেঁচে থাকে শুধুই এক নিভে যাওয়া সুরের করুণ সুরে।
প্রকাশিত : শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

















