খুবই প্রয়োজন কিশোর অপরাধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতামূলক সভা

সম্পাদকীয়

গতকাল অনলাইন পত্রিকা প্রিয় সময় পত্রিকায় ‘বাগমারায় কিশোর অপরাধ ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত‘ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারলাম। অবশ্য সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের আয়োজন আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরী বিষয়। আর তা’ বাংলার সর্বত্র এটা করা উচিত বলেই মনে করি। জনসচেতনতামূলক সভা আমাদের খুব কাছ থেকে সচেতন করতে পারে ও শিক্ষা দিতে পারে। আর তা’ সকলের জন্যেই খুবই গুরুত্ববহন করে। কোনো একটি এলাকায় যখন সকলের সম্মতি কোনো জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা, তখন তা’ হয়ে উঠে সকলের জন্যেই গ্রহণযোগ্য। আর এতে সকলেই দ্রæতই বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়ে উঠে। পরস্পরকে দ্রæত উদ্যোগ গ্রহণে সহযোগিতা করতে পারে।

বর্তমানে আমাদের সমাজে কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। তারা কারো কথাই শুনতে চায় না। কিশোর অপরাধী হলো সেই সকল কিশোর কিশোরী যারা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সামাজিক রীতিনীতি ও প্রথা অনুকরণ করতে না শিখে সমাজ বিরোধী চিন্তা ও কাজে অংশ নেয়। বয়সের দিক থেকে সাধারণ ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধই কিশোর অপরাধ। তবে বিভিন্ন দেশে বয়সের তারতম্য রয়েছে। কিশোর অপরাধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। সকল সমাজেই রয়েছে এর অনিবার্য উপস্থিতি। তবে প্রকৃতি ও মাত্রাগত দিক থেকে তা বিচিত্র। প্রতিটি শিশুই ফিতরাত তথা স্বভাব-ধর্ম ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করে। তার পিতা-মাতা ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশ তাকে ইসলাম থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়। ফলে শিশু-কিশোররা মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত হয়। সারাবিশ্বে ক্রমবর্ধমান হারে কিশোর অপরাধ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ফলে এটি অল্প সময়ের মধ্যেই একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিণত হতে পারে। যা একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইসলাম আল্লাহ মনোনীত একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামে কিশোর অপরাধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে।

শিশু-কিশোররাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাদের উন্নতি ও অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে দেশ ও জাতির উন্নতি। শিশু-কিশোরদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভ‚মিকা অপরিসীম। তাদের একটি অংশ কোন কারণে অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চরম হুমকি ও সুস্থ সমাজ জীবনের প্রতিবন্ধক হোক তা কারো কাম্য নয়। এজন্যই ইসলাম শিশু-কিশোরদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এবং অপরাধমুক্ত জীবনযাপনের উপস্থাপন করেছে সর্বজনীন ও কল্যাণকর নীতিমালা। যা বাস্তবে কার্যকর করতে পারলে পরিবার পেতে পারে কাক্সিক্ষত প্রশান্তি এবং দেশ ও জাতি লাভ করতে পারে অমূল্য সম্পদ। আধুনিক বিশ্বের অসংগঠিত সমাজ ব্যবস্থায় দ্রæত শিল্পায়ন ও নগরায়নের নেতিবাচক ফল হলো কিশোর অপরাধ। পরিবার কাঠামোর দ্রæত পরিবর্তন, শহর ও বস্তির ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং সমাজজীবনে বিরাজমান নৈরাজ্য ও হতাশা কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অপসংস্কৃতির বাঁধ ভাঙা জোয়ারও এজন্য অনেকাংশে দায়ী। কিশোর বয়সীদের দ্বারা সংঘটিত সমাজে বিদ্যমান মূল্যবোধ ও নিয়মনীতি বিরোধী কাজই কিশোর অপরাধ। তবে সামাজিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, শহর, গ্রাম বা এলাকাভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এক সমাজে যে কাজ বা আচরণ মূল্যবোধ ও নীতি বিরোধী অন্য সমাজে তা নাও হতে পারে।

মাদকদ্রব্য আমাদের সমাজে চরম বিরূপ প্রভাব যে ফেলে তার প্রমাণ রয়েছে অসংখ্য। দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে প্রায় প্রতিনিয়তই মাদকের কারণে পরিবার ও সমাজের ওপর দিয়ে বয়ে যায় দুর্ভোগের কালো ছায়া। মাদকাসক্ত ব্যক্তির হাতে মা, বাবা, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজন খুনের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্যবার। মাদকের কারণে এ দেশে বহু পরিবার ধ্বংস হচ্ছে। আমরা যদি কয়েক বছর আগের দিকে তাকাই তবে এ ধরনের ভ‚রিভ‚রি ঘটনার প্রমাণ আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মাদকাসক্ত ঐশী রহমানের কথা দেশের কোনো মানুষের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাহফুজুর রহমান-স্বপ্না রহমান দম্পত্তির কন্যা মাদকাসক্ত ও বিকারগ্রস্ত মাত্র ১৯ বছর বয়সি কন্যা ঐশী রহমান নিজে তার বাবা-মাকে হত্যা করে। ঐশীর পরিবার-পরিজনদের মধ্যে কারো ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। ১৭ আগস্ট ঐশী নিজে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। এরপর ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় তিনি। ঐশী রহমান শিশা, গ্যালোজ, ইয়াবা, হুইস্কি ও গাঁজা সেবন করত বলে জানা গেছে। মাদকের ফলে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে ঐশী। যার পরিণতিতে নিজ কন্যা ঐশীর হাতে বাবা ও মা হত্যাকান্ডের শিকার হন।

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পেরেছি যে, সেই রাজশাহীর বাগমারায় কিশোর অপরাধ ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতামূলক সভায় ৭ জানুয়ারি ২০২৫ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল। অর্থাত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম,পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোহন, মাসুমা আক্তার ও রাজিব রওনক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) নাহিদ হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিব, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে সভার গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পায়।

আমরা মনে করি, জনসচেতনতা বলতে বোঝায় সামাজিক, পরিবেশগত, এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিষয়গুলি সম্পর্কে ব্যক্তিদের উপলব্ধি, জ্ঞান এবং চেতনার স্তর। জনসচেতনতা জনমত গঠনে, সম্মিলিত কর্ম পরিচালনায় এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। আর এ পরিবর্তন সর্বত্র প্রয়োজন রয়েছে। আজকাল পত্র- পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে নারী নির্যাতনের চিত্র। ঘরে- বাইরে কোথাও নারী নিরাপদ নয়। সভ্য মানুষের মুখোশের আড়ালে পাশবিকতায় বেশি দৃশ্যমান। অহরহ ঘটে চলেছে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, গুম, খুন, হত্যার মতো বিভৎস ঘটনা। নারীর নিরাপত্তা যেন অকল্পনীয় কিছু! কিন্তু যেই নারীরা সমাজের স্তম্ভ, প্রকৃতির মতো লালন- পালন করার ক্ষমতা যাদের ওপর প্রদত্ত তারাই নির্যাতন – নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। নারীদের এই হীন দশা আধুনিক যুগে এসেও একই। বলা চলে বর্তমান সময়ে যুগের সঙ্গে নারী নির্যাতনের পথগুলো আরও সহজ হয়েছে পাশবিক মানুষদের কাছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে, ঘরে- বাইরে সর্বত্রই নারী এক গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে। নারী এবং পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ, সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। তাই নারীর নিরাপত্তা এখন সময়ের দাবি। হত্যা, ধর্ষণ, গুম, খুন, নির্যাতনের মতো সহিংস অপরাধের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভিকটিম পূর্ব পরিচিত বা এলাকার লোকজনের দ্বারা পাশবিকতার শিকার! কন্যা শিশু, তরুণী বা নারী যদি পূর্ব পরিচিতদের কাছেও নিরাপদ না হয় তাহলে নারীর নিরাপত্তা সত্যিই কোথায়? মানুষের নগ্নরূপ থেকে কিভাবে পরিত্রাণ মিলবে নারীদের?

ইন্টারনেটের যুগে সবার হাতেই প্রায় স্মার্টফোন। আর এই ফোনের মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে আলাপ- পরিচয় ঘটছে। কিন্তু ভালোমতো চেনা- পরিচয় না ঘটলেও নারীরা অনেক সময় ব্যক্তিগত ছবি, গোপন ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। সম্পর্কের অবনতি, দ্ব›দ্ব, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দায় বøাকমেইলিং করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলাও খুব সাধারণ ঘটনা বর্তমানে। তাই সমাজে ঘটে চলা এসব সমস্যা থেকে নারীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সচেতন হতে হবে পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে।

বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হওয়া বেশ জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় বাজে বন্ধুদের পাল্লায় পড়েও সন্তান বিপথে যায়। ধর্ষণের মতো জঘন্য নৃশংস কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি, ধূমপান, অসৎসঙ্গ থেকে পরিত্রাণ করতে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সরকারের একার পক্ষে যেমন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় তেমনই নারীর সচেতনতায় শুধু তাকে নিরাপদ করার জন্য যথেষ্ট নয়। সমাজের সবার একযোগে এ লক্ষে কাজ করতে হবে। পশু বৃত্তির পরিত্রাণ ঘটাতে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে নারীদের। নারী সমাজের বাইরের কেউ নয়। একজন পূর্ণ মানুষ ফলে নারীর প্রতি কৌতুহল বন্ধ করতে হবে। ছেলে- মেয়েদের কো এ্যাডুকেশন তাদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে সহয়তা করবে। ফলে মেয়ে- ছেলে লিঙ্গ বৈষম্য করে একে অপরের প্রতি প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে না তোলা। পরিবার, সমাজ গঠনে নারীর যেমন অংশগ্রহণ জরুরি পুরুষেরও সমান অংশগ্রহণ জরুরি। কেউ কারো প্রতিদ্ব›দ্বী নয়। সহোযোগী। বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হওয়া বেশ জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় বাজে বন্ধুদের পাল্লায় পড়েও সন্তান বিপথে যায়। ধর্ষণের মতো জঘন্য নৃশংস কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি, ধূমপান, অসৎসঙ্গ থেকে পরিত্রাণ করতে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সরকারের একার পক্ষে যেমন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় তেমনই নারীর সচেতনতায় শুধু তাকে নিরাপদ করার জন্য যথেষ্ট নয়। সমাজের সবার একযোগে এ লক্ষে কাজ করতে হবে। পশু বৃত্তির পরিত্রাণ ঘটাতে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে নারীদের। নারী সমাজের বাইরের কেউ নয়। একজন পূর্ণ মানুষ ফলে নারীর প্রতি কৌতুহল বন্ধ করতে হবে। ছেলে- মেয়েদের কো এ্যাডুকেশন তাদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে সহয়তা করবে। ফলে মেয়ে- ছেলে লিঙ্গ বৈষম্য করে একে অপরের প্রতি প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে না তোলা। পরিবার, সমাজ গঠনে নারীর যেমন অংশগ্রহণ জরুরি পুরুষেরও সমান অংশগ্রহণ জরুরি। কেউ কারো প্রতিদ্ব›দ্বী নয়; সহোযোগী।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৫
২৫ পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

You might like