রোমেনা আফাজ : সাহসী কলমের নীরব বিপ্লবী

মিজানুর রহমান রানা : 

ষাটের দশকের বাংলা পাঠকসমাজে যদি কোনো নাম ছিল নিঃশব্দে আলোড়ন তোলার মতো, তবে তা নিঃসন্দেহে রোমেনা আফাজ। তাঁর সৃষ্টি “দস্যু বনহুর” সিরিজ যেমন ছিল রোমাঞ্চের প্রতীক, তেমনি তিনি নিজেই ছিলেন নারী লেখক হিসেবে সাহসিকতার প্রতিমূর্তি। অথচ আজকের প্রজন্মের অনেকেই জানেন না এই নামটি—যিনি একসময় বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।

শৈশব ও সাহিত্যজীবনের শুরু

১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর, বগুড়ার শেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন রোমেনা আফাজ। মাত্র ৯ বছর বয়সে তাঁর প্রথম লেখা ছড়া ‘‘বাংলার চাষী” প্রকাশিত হয় কলকাতার মোহাম্মদী পত্রিকায়। সেই ছোট্ট খুকি একদিন হয়ে উঠবেন বাংলা সাহিত্যের অ্যাডভেঞ্চার রাণী—তা কে জানত?

সাহিত্যকর্ম: সাহস, রোমাঞ্চ ও ন্যায়বোধের সংমিশ্রণ

রোমেনা আফাজের সাহিত্যজীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে “রক্তে আঁকা ম্যাপ” দিয়ে। এরপর তিনি লিখেছেন প্রায় ২৫০টিরও বেশি উপন্যাস, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় “দস্যু বনহুর” সিরিজ (১৩৮টি বই) এবং “দস্যুরানী” সিরিজ (১২টি বই)। তাঁর লেখায় ছিল—

– দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চার
– ন্যায়-অন্যায়ের দ্বন্দ্ব
– নারী চরিত্রের সাহসী উপস্থাপন
– সহজ ভাষা ও টানটান কাহিনি

তাঁর লেখা থেকে তৈরি হয়েছে ছয়টি চলচ্চিত্র: কাগজের নৌকা, মোমের আলো, মায়ার সংসা*, মধুমিতা, মাটির মানুষ ও দস্যু বনহুর।

নারী হয়েও ‘আউট বই’ জগতের নায়িকা

এক সময় “আউট বই” বলে যেসব বইকে অবহেলা করা হতো, সেগুলোর পাঠক ছিল বিপুল। সেই জগতে একজন নারী লেখক হিসেবে রোমেনা আফাজ ছিলেন অসাধারণ ব্যতিক্রম। তাঁর কলমে ছিল সাহস, সমাজচেতনা, এবং পাঠকের মন জয় করার দুর্দান্ত ক্ষমতা।

সম্মাননা ও উত্তরাধিকার

– স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১০, মরণোত্তর)
– বেগম রোকেয়া স্বর্ণপদক (২০০০)
– ২১শে পদক (২০০৩)
– নারী মুক্তি আন্দোলনের সম্মাননা (২০০৬)

বগুড়ার জলেশ্বরীতলায় তাঁর বাড়িটি এখন “রোমেনা আফাজ স্মৃতিঘর” হিসেবে সংরক্ষিত। তাঁর নামে একটি সড়কও রয়েছে—“রোমেনা আফাজ সড়ক”।

অন্তরালে চলে যাওয়া এক নায়িকা

২০০৩ সালের ১২ জুন, ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন আজও অনেকটা নীরবেই কেটে যায়। অথচ তিনি ছিলেন এমন একজন লেখক, যিনি নারী হয়েও পুরুষপ্রধান সাহিত্যের ভুবনে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন সাহসিকতায়, প্রতিভায় ও পাঠকের ভালোবাসায়।

রোমেনা আফাজ ছিলেন এক নীরব বিপ্লবী, যিনি কলম দিয়ে ভেঙেছেন সাহিত্যের গণ্ডি, সমাজের চোখ রাঙানি, এবং পাঠকের একঘেয়েমি। তাঁর সাহিত্য শুধু রোমাঞ্চ নয়, এক ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ ও আত্মপ্রকাশের ভাষা। আজকের প্রজন্মের উচিত তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করা—কারণ সাহসী লেখকদের কখনোই হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, আজকের পত্রিকা।

মঙ্গল বার, ০৮ জুলাই ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy