মানুষের মৃত্যুর দিনক্ষণ সত্যিই কি জানাতে পারে এআই?

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
সব কাজেই এআই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। সে হোক রান্নার রেসিপি কিংবা চাকরির সিভি সবই লিখে দিতে পারবে এআই। এআই ইন্টেলিজেন্সি রোবট দিয়ে এখন কত কিছুই না করা হচ্ছে। নিউজ প্রেজেন্টার থেকে শুরু করে স্কুলে পড়ানো, অফিসের কাজ সবই।

এক কথায় এআই মানুষের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন মানুষের মৃত্যুর দিনক্ষণও বলে দিচ্ছে এআই। এআই-এর সাহায্যে তৈরি হয়েছে এমন একটি অ্যাপ, যা সহজেই বলে দিতে পারবে মৃত্যুর সময়। এই বছরের জুলাইতে সামনে এসেছে এই অ্যাপ। আর এর মধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সত্যিই কি এটা সম্ভব?

আদতে এটা নির্দিষ্ট করে বলা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীর অবস্থা দেখে বলেন তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে বলবে মৃত্যুর সময়। মূলত বয়স, উচ্চতা, ওজন, প্রতিদিন নেওয়া ক্যালোরির মাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং আরও একাধিক বিষয় মাথায় রেখেই এই হিসাব নিকাশ করে অ্যাপটি।

অ্যাপটির ডেভেলপার ব্রেন্ট ফ্যানসন জানিয়েছেন, ১২০০ টি লাইফ এক্সপেনটেস্টি সমীক্ষার তথ্য দিয়ে এই এআই টুলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হয়েছে। বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এই অ্যাপ, তবে সাবস্ক্রিপশন জরুরি। এরই মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার বার ডাউনলোড হয়েছে অ্যাপটি।

অ্যাপে লেখা রয়েছে, যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর একটি সম্ভাব্য সময় বলে দিতে পারবে এই অ্যাপ। একজন ব্যক্তি কোথায় থাকেন, ধূমপান করেন কি না, জীবনযাপনের ধরণ এবং বিএমআই-সব তথ্য দিলে বলে দেওয়া যাবে কতদিন বাঁচতে পারেন ওই ব্যক্তি।

একাধিক সমীক্ষা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই অ্যাপের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। এখান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র নিজেকে শুধরে নিতে পারবেন যে কেউ। একাধিক পরামর্শও দিয়ে থাকে এই অ্যাপ। যেমন- ওজনে নিয়ন্ত্রণ রাখা, প্রতিদিন নিয়ম করে শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান বন্ধ করা, পরিমিত খাওয়া, মদ্যপান যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা বা বন্ধ করে দেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো, নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর শারীরিক পরীক্ষা করানো, স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে দুশ্চিন্তা না করা ইত্যাদি।

নারীদের ডিপফেক থেকে সুরক্ষিত থাকার ৫ উপায়

নারীদের ডিপফেক থেকে সুরক্ষিত থাকার ৫ উপায়

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সব কিছুতেই এআইয়ের ছোঁয়া। এআই দিয়ে ইচ্ছামতো ছবি, ভিডিও বানাতে পারবেন। এছাড়া চাইলে গল্প লিখতে পারবেন, সিভি বাইনিয়ে নিতে পারবেন এআই দিয়ে।

তবে এআইয়ের ভিন্ন এক রুপও দেখে ফেলেছে বিশ্ববাসী। কীভাবে অন্যদের হেয় করা হচ্ছে এআইয় দিয়ে তৈরি ছবি এবং ভিডিও দিয়ে। সম্প্রতি দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মন্দানা, বলিউড অভিনেত্রী আলিয়ার ভুয়া ভিডিও ভাইরাল হয়। যা তৈরি হয়েছে ডিপফেক দিয়ে।

শুধু সেলিব্রিটিরাই নন, এই সমস্যায় সাধারণ মানুষও। কীভাবে অনলাইনে এই ফাঁদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন জেনে নিন-

>> অনলাইনে ভিডিও এবং ছবি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। খুব অপ্রয়োজনীয় ভিডিও কিংবা ছবি শেয়ার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর করলেও অবশ্যই প্রাইভেসি সেটিং খতিয়ে দেখে নিন।

>> সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের পাসওয়ার্ডগুলো যেন অবশ্যই শক্তিশালী হয়। এছাড়াও ভিডিও এবং ছবিও লক করে রাখতে পারেন। এতে চট করে আপনার আপলোড করা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করতে পারবে না। মাঝেমধ্যেই পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন।

>> নিজের ডিভাইসে নামি এবং জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এতে সহজে আপনার মোবাইল কিংবা ল্যাপটপে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারবে না। ব্যবহারকারীরের ডাটা সংগ্রহের জন্য সাধারণত ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে থাকে হ্যাকাররা। আর এখানেই আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে অ্যান্টিভাইরাস।

>> সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছবি এবং ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ওয়াটারমার্ক আপনাকে নিরাপদে রাখার জবর চাবিকাঠি। এমনিতে আপনার ছবি কিংবা ভিডিও যাতে অন্য কেউ নিজের নামে চালিয়ে দিতে না পারে, তার জন্যই ওয়াটার মার্ক ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে ডিপফেক থেকে বাঁচতে দারুণ কাজে দেবে এই অপশনটি। আবার কোথা থেকে ভিডিও বা ছবি চুরি করা হয়েছে, সেই সোর্সও জানা যাবে অনায়াসে।

>> ডিপফেক নিয়ে নিজে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করুন। অন্যকেও জানান এবং তাদের থেকেও জানার চেষ্টা করুন। বিষয়টি নিয়ে যাবতীয় তথ্য থাকলে তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুবিধা হবে। সূত্র: মেক ইউজ অব

ভাষা শিক্ষায় নতুন বিপ্লব ‘রিশো স্পিচ’

ভাষা শিক্ষায় নতুন বিপ্লব ‘রিশো স্পিচ’

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সংকীর্ণ চাকরির বাজারে এই দক্ষতার অভাব প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে এখনও সুদক্ষ জনবল তৈরির পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে পারছে না, সেখানে চাকরিপ্রত্যাশী, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থী কিংবা গবেষকদের ভাষা শিক্ষার জন্য বিকল্প মাধ্যমের প্রতি নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। এই চাহিদা মেটাতে সম্প্রতি বাজারে এসেছে একটি অভিনব এআই-ভিত্তিক ভাষা শেখার অ্যাপ ‘Risho Speech’, যা বিশ্বের ২০টিরও বেশি ভাষা শেখার সুযোগ এনে দিয়েছে।

অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘সনদ’। ‘রিশো স্পিচ’ এর নির্মাতারা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি অ্যাপ নয় বরং ভাষা শেখার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন। অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের জন্য ইংরেজি ভাষা শেখাকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি উন্নত করেছে উচ্চারণ, বাক্য গঠন এবং সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা। ব্যবহারকারী কোনো বাক্য বলার সময় যদি ভুল করেন, অ্যাপটি সঙ্গে সঙ্গে তা শনাক্ত করে সঠিক বিকল্প সাজেশন দেয়।

শুধু তাই নয়, এটি আরও ভালো বাক্য গঠনের পরামর্শ দিয়ে ব্যবহারকারীর ভাষাগত দক্ষতা উন্নত করে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ভাষা শেখার স্তর অনুযায়ী (প্রাথমিক, মধ্যম, উন্নত) চর্চার বিষয়বস্তু বেছে নিতে পারেন।

অ্যাপটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রচলিত উচ্চারণ শেখার সুযোগ। ফোনকলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় উচ্চারণে কথা বলার অনুশীলন ব্যবহারকারীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতাকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও অ্যাপটিতে রয়েছে ‘বিল্ট-ইন মক টেস্ট’, যা বিশেষত IELTS পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অত্যন্ত কার্যকর। স্পিকিং সেকশনের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

‘রিশো স্পিচ’ অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। সামান্য মাসিক বা বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। যারা ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে চান, উচ্চারণে দক্ষতা অর্জনের স্বপ্ন দেখেন কিংবা আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শেখার আনন্দময় অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এটি এক আদর্শ সঙ্গী। এটি কেবল একটি অ্যাপ নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সাথে বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম।

ডিজিটাল অ্যারেস্ট থামাতে ৫৯ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক

ডিজিটাল অ্যারেস্ট থামাতে ৫৯ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ সাইবার অপরাধের এই নতুন ধারা নিয়ে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার। সন্দেহজনক ১ হাজার ৭০০ স্কাইপ আইডি ও ৫৯ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।

সেই সঙ্গেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে সচেতনতার জন্য এক কর্মসূচির নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিজিটাল গ্রেপ্তার থামাতে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালানো হবে।

ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে এই প্রতারণার শিকার হয়ে ২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। থাইল্যান্ড, হংকং, লাওসের মতো একাধিক দেশ থেকে ভারতে এই ডিজিটাল প্রতারণা করা হচ্ছে।

এই মামলার তদন্তে প্রায় ১৫৯ কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে ইডি। যার পুরোটাই ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রতারণা চক্রের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ১১৫ তম ‘মন কি বাত’ রেডিও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, যেভাবে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা বিপজ্জনক।

তার কথায়, ‘প্রতারকরা ফোনে এমন পরিবেশ তৈরি করছে যে মানুষ ভয় পেয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে এখন এটা করো নয়তো গ্রেপ্তার করা হবে আসলে পুরোটাই প্রতারণা।’ এই ধরনের ঘটনায় অযথা ভয় না পেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে এই ধরনের ফোনকল রেকর্ড করার পরামর্শ দেন মোদি।

সাইবার হামলা নিয়ে ‘প্যাসিফিক রিম’

সাইবার হামলা নিয়ে ‘প্যাসিফিক রিম’

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস সম্প্রতি ‘প্যাসিফিক রিম’ শিরোনাম শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে চীন ভিত্তিক একাধিক আন্তঃসংযুক্ত সাইবার হামলাকারীরা সফোসের ফায়ারওয়ালসহ এর পেরিমিটার ডিভাইসগুলো লক্ষ্যবস্তু করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজরদারি, হামলা এবং সাইবার স্পায়িংয়ের জন্য এই হামলাকারীরা নতুন পদ্ধতি এবং কাস্টমাইজড ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে। এই কৌশলগুলো চীনা রাষ্ট্র গোষ্ঠীর ভোল্ট টাইফুন, এপিটি৩১ এবং এপিটি৪১ গ্রুপগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের। হামলাকারীরা প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট-বড় উভয় কাঠামো এবং সরকারিস্থাপনা গুলো লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যার মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তি সরবরাহকারী, রাজধানীর বিমানবন্দর, সামরিক হাসপাতাল, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সিস্টেম।

সাইবারসিকিউরিটি এবং থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সফোস এক্স-অপস আক্রমণকারীদের মোকাবেলা করার জন্য কাজ করেছে এবং ক্রমাগত প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। প্রাথমিক আক্রমণে সফোস প্রতিক্রিয়া জানালে হামলাকারীরা তাদের প্রচেষ্টা বাড়ায় এবং আরও অভিজ্ঞ অপারেটরদের নিয়ে কাজ করে।

২০২০ সালে ক্লাউড স্নুপার এবং অ্যাসনারক হামলা নিয়ে সফোস বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে। এছাড়া চীন রাষ্ট্রের হামলাকারী নিয়ে এবং আনপ্যাচড আর অচল ডিভাইস (ইওএল) ডিভাইসগুলোর প্রতি তাদের টার্গেট সম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্ব সফোসের বিশ্লেষণ উঠে আসে।

সাইবার হামলাকারীরা প্রধানত ইন্টারনেট ভিত্তিক এবং জটিল ডিভাইসগুলো টার্গেট করে। এ ধরনের ডিভাইসগুলো সুরক্ষিত রাখতে সফোসের কিছু পরামর্শ হলো-

সম্ভব হলে ইন্টারনেট কানেক্টেড সার্ভিস এবং ডিভাইসগুলো কমিয়ে আনুন।
ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইসগুলোতে দ্রুত প্যাচিং করুন এবং ডিভাইসগুলো পর্যবেক্ষণে রাখুন।
এজ ডিভাইসগুলোর জন্য স্বয়ংক্রিয় হট ফিক্স ব্যবহার করুন।
আইওসিগুলো (ইন্ডিকেটর অফ কম্প্রোমাইজ) শেয়ার করে নেওয়ার জন্য আইন এবং সরকারি-বেসরকারি পার্টনারদের সাথে কাজ করুন।
প্রায় অকার্যকরী ডিভাইসগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।

ডিজিটাল অ্যারেস্ট ফাঁদে পড়ে যা হারালেন তরুণী

ডিজিটাল অ্যারেস্ট ফাঁদে পড়ে যা হারালেন তরুণী

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। গত ১০ মাসে এই প্রতারণার মাধ্যমে ২,১৪০ কোটি টাকা হারিয়েছেন ভারতের সাধারণ মানুষ। থাইল্যান্ড, হংকং, লাওসের মতো একাধিক দেশের মাধ্যমে এই প্রতারণা ভারতে চলছে।

এবার সামনে এলো মুম্বাইয়ের এক ২৬ বছরের তরুণীর ঘটনা। অভিযোগে জানা গেছে, ভিডিও কলে তাকে জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করে প্রতারক এবং তার থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর রাতে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থায় কাজ করা ওই তরুণী একটি ফোন কল পান। প্রতারক নিজেকে দিল্লির পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে জানান যে, ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নরেশ গোয়েলের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়।

প্রতারকের নির্দেশে তরুণীকে একটি হোটেল রুম বুক করতে বাধ্য করা হয় এবং সেখানে একটি ‘ভার্চুয়াল শুনানি’র নাটক তৈরি করা হয়। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নামে তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘বডি ভেরিফিকেশন’-এর অজুহাতে ভিডিও কলে তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়।

গত ২৮ নভেম্বর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো প্রতারণার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, কোনও সরকারি তদন্তকারী সংস্থা অনলাইনে কাউকে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে কাজ করে না। এ ধরনের ফোন পেলে দ্রুত ন্যাশনাল সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

গুগল ক্রোম ও মাইক্রোসফটের ৩ লাখ ব্যবহারকারী হ্যাকারদের কবলে

গুগল ক্রোম ও মাইক্রোসফটের ৩ লাখ ব্যবহারকারী হ্যাকারদের কবলে

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
দিন যত এগোচ্ছে, অনলাইন প্রতারণা কিংবা সাইবার হামলা ততই বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে নামিদামি ওয়েবসাইট পর্যন্ত হ্যাকারের কবলে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এবার নাকি হ্যাকারদের টার্গেটে রয়েছেন গুগল ক্রোম ও মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহারকারীরা।

সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি রিজনল্যাবসে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হ্যাকাররা সহজেই এক্সটেনশন ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারে সেভ করা স্পর্শকাতর ডেটা, ব্যাংকিং ডিটেইলস এবং পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, ম্যালওয়্যারযুক্ত এসব ব্রাউজার এক্সটেনশনগুলো ২০২১ সাল থেকে ব্যবহারকারীদের টার্গেট করছে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ লাখ গুগল ক্রোম ও মাইক্রোসফট এজ ব্যবহারকারী এর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

রিপোর্টে বলা হয়, এই এক্সটেনশনগুলো ছোট সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কাজ করে। হ্যাকারদের ম্যালওয়্যার এক্সটেনশনগুলো আসল টুলের মতো দেখতে এবং ব্যবহারকারীরা এগুলো কোনো কিছু না ভেবে ইনস্টল করেন। আর একবার ইনস্টল হয়ে গেলে, এই এক্সটেনশনগুলো সিস্টেমের সংবেদনশীল ডেটার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড, ব্রাউজিং হিস্ট্রি এবং ব্যাংকের তথ্য হ্যাকারদের কাছে পৌঁছে দেয়।

চিন্তার বিষয় হলো, এক্সটেনশন ডিলিট করার পরও ম্যালওয়্যার কম্পিউটারে লুকিয়ে থাকে এবং সিস্টেম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সক্রিয় হয়ে যায়। এই ম্যালওয়্যার এক্সটেনশনের ফাঁদে ব্যবহারকারীদের ফেলতে হ্যাকাররা ম্যালভার্টাইজিং (ম্যালওয়্যার+বিজ্ঞাপন) কৌশল ব্যবহার করেন।

কম্পিউটারে এই ম্যালওয়্যার আছে কি না জানবেন যেভাবে

আপনার কম্পিউটারে এই ম্যালওয়্যার আছে কি না তা চেক করে দেখতে পারেন। যদি আপনার সিস্টেম এই ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে আপনার স্ক্রিন গুগল ক্রোম এবং এজ থেকে রিডাইরেক্ট হয়ে হ্যাকারের সার্চ পোর্টালে চলে যাবে। এছাড়া সিস্টেম ফোল্ডারে থাকা ফাইলগুলো চেক করেও এই ম্যালওয়্যার শনাক্ত করতে পারবেন।

রিজনল্যাবসের মতে, এই ম্যালওয়্যারের এক্সটেনশন সরাতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে নির্ধারিত এক্সটেনশন সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর রেজিস্ট্রি কি-গুলো ডিলিট করে এই ম্যালওয়্যার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

সব কেড়ে নিতে পারবে না এআই, দাবি গুগল কর্তার

সব কেড়ে নিতে পারবে না এআই, দাবি গুগল কর্তার

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
মুহূর্তের মধ্যে মানুষের থেকেও কয়েকগুণ দ্রুত কাজ করতে পারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। তাই অনেকের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারাবেন অনেকেই। বিশেষ করে চ্যাটজিপিটির মতো বটের আবির্ভাবের পর থেকে সে সম্ভাবনা আরও জোরাল হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ডেভেলপারদের জগতেও।

তবে গুগলের হেড অব রিসার্চ ইয়োসি মাতিয়াস জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করে বলেন, কোডিংয়ের মতো কাজের জন্য এখনও মানুষ ডেভেলপারদের থেকে বহু দূরে এআই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতিয়াস এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সবারই কোডিং শিখতে হবে। শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে শেখাটা বরাবরের মতোই এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এআই নির্দিষ্ট কাজে সাহায্য করতে পারে। বিশেষত জুনিয়র স্তরে। কিন্তু সমগ্র কোডিং প্রক্রিয়াকে দখল করতে তার এখনও অনেক সময় লাগবে।

তবে মাতিয়াস এ কথা বললেও প্রশ্ন উঠছে, এআই তো ইতোমধ্যেই কোড লেখার কাজ শুরু করে দিয়েছে। এর জবাবও দিয়েছেন তিনি। মাতিয়াস জানান, এআই কোড লিখলেও তা খতিয়ে দেখার ভার মানুষের ওপরই পড়বে। সুতরাং কোডিংয়ের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া বিষয়টি এখনও এআইয়ের নাগালের বাইরে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জুনিয়র ডেভেলপাররা যে চাপে পড়েছেন তাও স্বীকার করেন মাতিয়াস।

সাম্প্রতিক অতীতে এইচসিএলের প্রাক্তন সিইও বিনীত নায়ার দাবি করেছিলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যার ফলে অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষকে ছাড়াই কাজ চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু কোডিং নিয়ে ভিন্ন কথা শোনালেন গুগল কর্তা।

মানুষের মতোই কথা বলবে, আচরণ করবে এআই!

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। যে কাজ করতে গিয়ে মানুষকে অনেক হিমশিম খেতে হয় সেটিও কয়েক সেকেন্ডে করে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। তবে এবার শুধু কাজই নয়, এআই মানুষের মতোই কথা বলবে এবং আচরণ করবে বলে জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের সিইও মোস্তফা সুলেমান।

তিনি বলেন, কল্পনা করুন আপনার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার স্টাইল, ছন্দ সব রপ্ত করে ফেলেছে। কোন কোন তথ্য আপনার জন্য জরুরি, সোজা কথায় গভীরভাবে ব্যক্তিগত হয়ে ওঠা। আর তা আপনারই অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে।

তার দাবি, অদূর ভবিষ্যতে কেবল কাজ নয়, মানুষের জীবনযাপনকেও আরও ‘স্মার্ট’, আরও নিখুঁত করে তুলবে এআই।

সাম্প্রতিক অতীতে এইচসিএলের সাবেক সিইও বিনীত নায়ার দাবি করেছিলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যার ফলে অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষকে ছাড়াই কাজ চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগেও এআই সম্পর্কে মানুষের তেমন ধারণা ছিল না। কিন্তু এই মুহূর্তে চ্যাটজিপিটি থেকে কপিলট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে ‘টক অব দ্য টাউন’। এই প্রযুক্তি মানুষের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অনলাইন গণমাধ্যম ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আরিফুল ইসলাম আরমান :

তথ্য ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় আমরা এক নতুন যুগের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। এআই-এর উদ্ভাবন এবং কার্যকরী ব্যবহার অনলাইন গণমাধ্যমে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।যা কন্টেন্ট তৈরি, ব্যবস্থাপনা এবং বিতরণ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে তথ্য প্রবাহ এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির গতি দ্রুততর হচ্ছে। প্রতিদিন অনলাইন গণমাধ্যমকে অনেক পরিমাণে ডেটা বিশ্লেষণ, কন্টেন্ট তৈরি এবং পাঠকদের কাছে সঠিক সময়ে সঠিক বার্তা পৌঁছানোর মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি গণমাধ্যমের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এআই-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় কন্টেন্ট তৈরি, অডিয়েন্স অ্যানালাইসিস, পাঠকের আগ্রহ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং ইত্যাদির মতো কার্যক্রম সহজতর হচ্ছে। যা গণমাধ্যমের প্রচলিত পদ্ধতিগুলোকে এক নতুন রূপ দিয়েছে।

এআই এর ব্যবহার শুধু কন্টেন্ট তৈরি এবং স্বয়ংক্রিয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মিডিয়াগুলোর জন্য পাঠক চাহিদা বিশ্লেষণ, দ্রুত সংবাদ সরবরাহ এবং বিজ্ঞাপন প্রচার কার্যক্রমকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন করতে সহায়তা করছে। উদাহরণস্বরূপ- নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ান এর মতো শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ ও কন্টেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া উন্নত করেছে।

সামগ্রিকভাবে অনলাইন গণমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু তাদের কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে না, বরং এটি কন্টেন্ট তৈরির পদ্ধতি এবং দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের উপায়গুলোকেও পুনঃসংজ্ঞায়িত করছে। ভবিষ্যতে এআই-এর আরও উন্নত সংস্করণগুলো গণমাধ্যমকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে এবং এর সাথে আসা নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধানও করবে। তাই এআই এবং অনলাইন মিডিয়া কিভাবে একসাথে এক নতুন যুগের সূচনা করছে, তা নিয়ে আমাদের কৌতূহল এবং উদ্দীপনা থাকা উচিত।

কন্টেন্ট তৈরির এবং অটোমেশন
এআই ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই যেমন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বিভিন্ন এআই টুল এবং সিস্টেম তৈরি করেছে। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য টুলের নাম ‘রয়টার্স নিউজ ট্রেসার’। এই টুল সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণ করে ব্রেকিং নিউজ চিহ্নিত করতে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে। এটি সাংবাদিকদের দ্রুত সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করতে সহায়তা করে। এছাড়াও তারা স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং এবং ডেটা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

এছাড়া অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের ‘ওয়ার্ডস্মিথ’ নামের একটি এআই টুল ব্যবহার করে প্রতি বছর কয়েক হাজার কনটেন্ট তৈরি করে। এই টুল ব্যবসা এবং ফাইন্যান্স সম্পর্কিত সংবাদ ও তথ্য বিশ্লেষণে সহায়তা করে। যা একজন প্রতিবেদক বা সম্পাদকের জন্য সময় ও শ্রম বাঁচায়। উদাহরণস্বরূপ- কোন প্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রতিবেদন তৈরির সময় ওয়ার্ডস্মিথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রবন্ধ তৈরি করে। যা এপি’কে আরও দ্রুত এবং নির্ভুলতার সাথে সংবাদ প্রকাশ করতে সহায়তা করে।

এআই ভিত্তিক চ্যাটবট এবং ইন্টারেক্টিভ ফিচার
সংবাদ সংস্থাগুলো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে তাদের পাঠকদের সাথে আরও সরাসরি এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ করতে সক্ষম হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ- দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট একটি এআই ভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ চ্যাটবট তৈরি করেছে। যা দর্শকদের সাথে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রবন্ধ পড়ার জন্য সুপারিশ করে। এটি শুধুমাত্র পাঠকদের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে না, বরং সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটে পাঠকদের সময় বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

এআই এবং মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন কার্যকারিতা বৃদ্ধি
বিজ্ঞাপন প্রচারে এআই এর ব্যবহার গণমাধ্যমের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ- গুগল এডস এবং ফেসবুক এডস এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং বিজ্ঞাপনদাতার জন্য কার্যকারিতা বাড়ায়। এআই মডেলগুলো ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে তাদের আগ্রহের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপনগুলো প্রদর্শন করে, যা বিজ্ঞাপনের ক্লিক-থ্রু রেট (সিটিআর) বাড়াতেও সহায়ক।

শিক্ষা এবং সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ
সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমে এআই এর ব্যবহার কিভাবে শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে তা বোঝার জন্য কিছু উদাহরণ দেখা যাক। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেট্‌স ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এর মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এআই সাংবাদিকতার কোর্স চালু করছে। যা শিক্ষার্থীদের এআই টুলগুলো ব্যবহার করে কিভাবে কার্যকর কন্টেন্ট তৈরি করা যায়, তা শেখাচ্ছে।

নৈতিকতা এবং নীতিগত চ্যালেঞ্জ
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যদিও মিডিয়া খাতে অসাধারণ সুবিধা দিচ্ছে। তবে এটি কিছু নৈতিক এবং নীতিগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। উদাহরণস্বরূপ- এআই ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সাংবাদিকতা কিছু ক্ষেত্রে পক্ষপাত বা ভুল তথ্য প্রচার করতে পারে। কারণ এআই সিস্টেমগুলো পূর্বনির্ধারিত ডেটাসেট থেকে শেখে। যা স্বাভাবিকভাবেই কিছু সীমাবদ্ধতা বহন করে। এছাড়া তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগও এখানে বিদ্যমান।

১. পক্ষপাত এবং ভুল তথ্য
এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ সাধারণত পূর্বনির্ধারিত ডেটাসেটের উপর ভিত্তি করে হয়। যদি এই ডেটাসেটগুলো পক্ষপাতদুষ্ট বা অসম্পূর্ণ হয়, তাহলে এআই সিস্টেমগুলোও পক্ষপাতপূর্ণ বা ভুল তথ্য তৈরি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ- একটি এআই-চালিত ‘নিউজ রাইটিং টুল’ যদি একপেশে সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, তাহলে সেটি পক্ষপাতপূর্ণ বা অসম্পূর্ণ সংবাদ তৈরি করতে পারে যা সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা ও সঠিকতার বিরুদ্ধে যায়।

২. তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা
এআই প্রযুক্তি সাধারণত বিপুল পরিমাণে ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে। এই ডেটার নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডেটার অনুপযুক্ত ব্যবহারে ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে। হ্যাকিং বা ডেটা চুরির ঘটনা এআই সিস্টেমগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

৩. নৈতিকতা এবং জবাবদিহিতা
এআই সিস্টেমগুলোর ব্যবহারে নৈতিক প্রশ্ন উঠে আসে, যেমন- কোন উপায়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর ফলস্বরূপ কেমন প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে, সংবাদ বা কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে, এআই সিস্টেমের দ্বারা তৈরি তথ্যের নির্ভুলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. চাকরি হারানো এবং দক্ষতা উন্নয়ন
যদিও এআই প্রযুক্তি কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজকে সহজ করেছে, এটি কিছু ক্ষেত্রে অনেকের চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, সেই সব ক্ষেত্রগুলোতে যেখানে এআই কাজের উন্নত দক্ষতা প্রদর্শন করে। যেমন- সংবাদ লেখার এবং ডেটা বিশ্লেষণ। এর সাথে, এআই ব্যবহারকারী কর্মচারীদের জন্য নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হতে পারে।

৫. প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা
এআই সিস্টেমগুলোর এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন ভাষার প্রকৃত বুঝা, সাংস্কৃতিক নিরীক্ষণ এবং মানবিক আবেগের মূল্যায়ন। এই প্রযুক্তি কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মানবিক অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম নয়।

৬. নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিমালা
এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালার অভাবে অপ্রস্তুত থাকতে পারে। এর ফলে সঠিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ভুল ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে কঠোর আইন এবং নীতিমালা প্রয়োজন।

এই প্রশ্নগুলো আপনার মনে এসেছে? অনলাইন মিডিয়ায় এআই এর ব্যবহার কি সৃজনশীলতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে?

– না, এআই সৃজনশীলতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বরং এটি সৃজনশীল কাজের মান এবং কার্যকারিতা বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, এআই-এর মাধ্যমে গ্রাফিক ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। যা সৃজনশীল পেশাদারদের তাদের সময় এবং দক্ষতা উন্নতিতে সহায়তা করে।

এআই প্রযুক্তি কি সাংবাদিকদের কাজকে প্রতিস্থাপন করবে?

– এআই প্রযুক্তি কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাজ সহজ করেছে, বিশেষ করে পুনরাবৃত্তিমূলক এবং তথ্যভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে। তবে এটি সৃজনশীল এবং মানবিক বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না। এআই তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করতে পারলেও, জটিল সামাজিক এবং মানবিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মানব সাংবাদিকতার প্রয়োজন রয়ে গেছে।

এআই প্রযুক্তি অনলাইন মিডিয়া খাতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে, যা কন্টেন্ট তৈরি, বিতরণ এবং বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে। এটি কেবল গণমাধ্যমের কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে না, বরং তাদের ব্যবসায়িক মডেলগুলো আরও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করছে। তবুও এআই এর সাথে সম্পর্কিত নৈতিক এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য যথাযথ নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কিত এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার জন্য গবেষণা, নীতিমালা তৈরি, এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে, এআই মিডিয়া খাতে একটি বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে, তবে এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রযুক্তিগত এবং নৈতিক দিকগুলোতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এই কনটেন্ট তৈরিতেও বহুল ব্যবহৃত একটি উন্মুক্ত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুল ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্বের প্রথম এআই সুন্দরী বিজয়ী কেনজা লাইলি

বিশ্বের প্রথম এআই সুন্দরী বিজয়ী কেনজা লাইলি

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যা নিয়ে আমরা কমবেশি সকলেই অবগত। কী না করা যায় এআই দিয়ে? মানুষের চেহারাও তৈরি করা এআই এর কাছে এখন এক তুরির কাজ। কিন্তু, এআইকে ব্যবহার করে একজন মানুষের চেহারা কতটা আকর্ষণীয় করা যায়, সেখানেই রয়েছে মুন্সিয়ানা।

সম্প্রতি এমনই এক প্রতিযোগিতা বিশ্বে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হল তাও খুবই বড় পরিসরে। সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সুন্দরী প্রতিযোগিতা। এতে বিজয়ীর মুকুট অর্জন করেছেন কেনজা লাইলি নামে এক মরক্কোর ইনফ্লুয়েন্সার।

তবে, সাধারণ বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার মত কেনজা লাইলি তার সৌন্দর্যের ওপর মুকুট অর্জন করেননি। এখানে অংশগ্রহণকারীরা এআইকে ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল মডেলকে নিজের মত রূপ দিয়েছেন। সবমিলিয়ে মডেলের গঠন, পোশাক, ডিজাইন দেখে বিবেচনা করা হয়েছে কোন প্রতিযোগী এআই মডেলকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপে তৈরি করেছে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ক্রিয়েটরের দক্ষতা এবং কোন টুলের মাধ্যমে ক্রিয়েটর এ মডেল বানিয়েছেন, তা যাচাই করা হয়েছে। এখানে প্রম্পট সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আয়োজন করা হয় বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস এআই’। এআই কনটেন্ট-নির্ভর ওয়েবসাইট ফ্যানভ্যু আয়োজন করে ইভেন্টটি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। এতে মরক্কোর হিজাবি ইনফ্লুয়েন্সার কেনজা লাইলির মাথায় উঠেছে বিজয়ীর মুকুট।

প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সে এই সম্মাননা অর্জন করেছেন কেনজা লাইলি। এ ছাড়া রানার্সআপ হয়েছে ফ্রান্সের লালিনা ভালিনা ও পর্তুগালের অলিভিয়া সি।

কেনজা লাইলি হিজাব পরিহিত অ্যাকটিভিস্ট ও ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯৫ হাজার। সে-ই মরক্কোর প্রথম ভার্চ্যুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার। নিজের কনটেন্টের মাধ্যমে লাইলি তার দেশের ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চায়।

 

অনলাইনে গেম খেলার নেশা থাকলে মানতে হবে ১৫ বিষয়

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
অনলাইনে গেম খেলতে পছন্দ করেন আট থেকে আশি সব বয়সী মানুষ। অনেকের এটি নেশায় পরিণত হয়েছে। তবে অনলাইনে গেম খেলতে গিয়ে প্রতারকের পাল্লায় পড়তে পারেন। অর্থ, সম্মান খোয়াতে হতে পারে অনলাইন গেম খেলতে গিয়ে।

স্মার্টফোন,। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে যেহেতু গেম খেলছেন। এসব ডিভাইসে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, যা সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যেতে পারে। তাই অনলাইন গেম খেললে অবশ্যই আপনার কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এতে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী বিষয়ে নজর রাখতে হবে আপনাকে-

>> যে গেম খেলতে চান, সেটা সব সময়েই ট্রাস্টেড বা ভেরিফায়েড অ্যাপ স্টোর থেকেই ডাউনলোড করুন।

>> আকর্ষণীয় গেমের বিজ্ঞাপন দেখে ডাউনলোড করে ফেলবেন না। এ থেকে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হতে পারে। তাই সতর্ক হোন।

>> অনেক সময়ে মেসেজ এ লিংক পাঠিয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিংক ছড়িয়ে গেমের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এতে ক্লিক করবেন না।

>> গেমিং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার যেন নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপডেট করা হয়।

>> কোনো গেমে আপনার অনলাইন প্রতিপক্ষের সঙ্গে চ্যাট করলেও কোনোভাবেই আপনার কোনো ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল কোনো তথ্য, ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তার সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

>> গেম চলাকালীন অথবা গেমের প্রতিপক্ষ আপনাকে কোনো লিঙ্ক পাঠিয়ে কোনো অফারে পেমেন্টের প্রস্তাব দিলে ভুলেও পা দেবেন না।

>> যে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে গেমে অংশ নিচ্ছেন, সেই গ্যাজেটে অবশ্যই ভেরিফায়েড ও লাইসেন্সড অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টিম্যালওয়্যার ইনস্টল করে রাখবেন।

>> ডিভাইস এবং সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টরসহ নিরাপত্তা ফিচার অন রাখুন।

>> যাতে গেমের মাধ্যমে কোনোভাবে কোনো ম্যালওয়্যার আপনার গ্যাজেটের সিস্টেমকে আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য সিকিওরিটি সেটিংস প্রয়োজনমতো কনফিগার করুন।

>> যে গ্যাজেট থেকে গেম খেলছেন, সেই স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ থেকে অনলাইন ব্যাঙ্কিং ট্রানজেকশন বা অফিসিয়াল কাজকর্ম না করাই ভালো।

>> ওই গ্যাজেটে প্রয়োজনীয় কোনো ডাটা স্টোর করা থাকলে তার ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন এক্সটারন্যাল হার্ড ড্রাইভে। যাতে কোনোভাবে সিস্টেম কম্প্রোমাইজড হলেও আপনার ডাটা সুরক্ষিত থাকে।

> বৈধ নেটওয়ার্ক এবং সুরক্ষিত ওয়াইফাই ব্যবহার করে গেমে অংশ নেওয়াই ভালো।

> ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গেমিং করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

> কোনো গেমে অংশ নিতে হলে যদি ই-মেল আইডি দিয়ে লগ-ইন করতে হয়, তাহলে আপনার অফিসিয়াল বা রোজকার ব্যবহৃত ই-আইডি দেবেন না।

> গেমিং অ্যাপ এবং সেটা যে গ্যাজেটে ব্যবহার করছেন, সেখানে যদি অন্য কোনো জরুরি অ্যাপ থাকে সবগুলোর ক্ষেত্রেই একটু জটিল পাসওয়ার্ড (আপার ও লোয়ার কেস, সাইন, নম্বর-সহ) ব্যবহার করবেন। সূত্র: কিপার সিকিউরিটি

 

ল্যাপটপ স্লো হলে যা করবেন

তথ্যপ্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক
প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় কম্পিউটার ছাড়া জীবন যেন অসম্পূর্ণ। তবে সহজেই বহনের জন্য এখন ল্যাপটপ বেশি জনপ্রিয়। মহামারির সময় অনলাইন ক্লাস, হোম অফিসের কল্যাণে ল্যাপটপ নতুন কিনেছেন অনেকে। আবার অনেকে পুরোনোটাই ব্যবহার করেছেন। কাজের মাঝে মাঝেই স্লো হয়ে যাচ্ছে ল্যাপটপ।

দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ল্যাপটপে প্রচুর টেম্প ফাইল এবং আক্ষরিকভাবেই ধুলোবালি জমা হয়। যন্ত্রাংশগুলো পুরোনো হতে থাকে এবং সফটওয়্যার আপডেট বা আপগ্রেড করার ফলে, ল্যাপটপ স্লো হতে পারে। এ ছাড়াও নানান কারণে আপনার ল্যাপটপটি স্লো হতে পারে।

তবে খুব সহজ কিছু উপায়ে আপনার স্লো হয়ে যাওয়া ল্যাপটপটি ফাস্ট করে নিতে পারেন। জেনে নিন উপায়গুলো-

> একসঙ্গে অনেকগুলো ট্যাব খুলে রাখবেন না। প্রয়োজনীয় ট্যাপগুলোই শুধু সামনে রাখুন। একারণেও অনেক সময় ল্যাপটপ স্লো হয়ে যেতে পারে।

> অব্যবহৃত অ্যাপগুলো হার্ডড্রাইভে স্টোরেজ দখল করে রাখে। যা সিপিউ থেকে রিসোর্স শুষে নেয়। তাই, জাঙ্ক ডিলিট করে জায়গা খালি করুন এবং প্রসেসিং এর ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার দ্রুততর করুন।

> ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা যাবতীয় কিছু এবং অব্যবহৃত প্রোগ্রামের রিসোর্স আপনার কম্পিউটারের বুট-আপের গতি কমিয়ে দেয়।উইন্ডোজ ১০-এর টাস্ক ম্যানেজারে গিয়ে, স্টার্ট-আপে দেখুন আপনার কম্পিউটার চালুর সঙ্গে সঙ্গে কোন কোন প্রোগ্রাম চালু হয়।

> নিয়মিত ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন। হতে পারে আপনি স্বেচ্ছায় ইনস্টল করেননি, এমন ক্ষতিকারক ও সন্দেহজনক কোনো সফটওয়্যার আপনার ল্যাপটপের গতি কমিয়ে রেখেছে। নিয়মিত ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার স্ক্যান এমন বিপজ্জনক কিছু থেকে আপনার ল্যাপটপকে সুরক্ষা দেবে।

> ল্যাপটপকে দ্রুততর করতে কয়েকটি হার্ডওয়্যার পরিবতর্ন করা করতে পারেন। তারমধ্যে একটি হচ্ছে সলিড স্টেট ড্রাইভার সংযোজন অন্যতম। এটি সবকিছুই দ্রুততর করে তোলে; বুট করা, শাট ডাউন, প্রোগ্রাম চালু করায় গতানুগতিক হার্ড ড্রাইভের তুলনায় এটি নিমিষেই কাজ করে।

> ল্যাপটপ সমসময় পরিষ্কার রাখুন। অত্যধিক ধুলো জমে গেলে ওভারহিটে ঝুঁকি বাড়বে। ওভারহিট হলে প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স কার্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এক ক্যান কম্প্রেস্ড এয়ার সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি ভেন্ট পরিষ্কার করে প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডকে নিঃশ্বাস নিতে দিন।

> অনেকেই আছেন রিসাইকেল বিন খালি করেন না। এতে কিন্তু ল্যাপটপ স্লো হয়ে যেতে পারে। মাঝে-মাঝে রিসাইকেল বিন খালি করুন। এছাড়া Shift + Delete কমান্ডের ব্যবহার করতে পারেন আর এটি করে আপনি আপনার ফাইল পারমানেন্টলি ডিলিট করতে পারবেন।

 

বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like