অরণ্য ভাবনা : ক্ষুদীরাম দাস

(১)
ঈশ্বরের অরণ্য, ঈশ্বরের প্রশংসা

অরণ্যে ঈশ্বরের ছায়া, নিবিড় সবুজের সুর,
পাতায় পাতায় কথা বলে, হৃদয়ে জাগে পবিত্র নূর।
গাছের কানে ফিসফাসে, বাতাস বহে অলৌকিক,
প্রতিটি ফুলে, প্রতিটি কণায়, ঈশ্বরের হাতের চিহ্ন অ¤øানিক।

পাহাড়ের গায়ে সূর্য হাসে, আলোর রঙে রাঙে ধরা,
নদীর স্রোতে গান গায়, ঈশ্বরের কল্যাণী ধারা।
পাখির কলতানে, মেঘের ছায়ায়, জীবনের গীত বাজে,
অরণ্যের গভীরে ঈশ্বর, প্রতি মুহূর্তে তাঁর সাজে।

মাটির বুকে ফসল ফলে, তাঁর দয়ার অফুরান ভাÐার,
প্রতি শিশিরে, প্রতি রশ্মিতে, তাঁর প্রেমের অপার সমার।
ঝর্নার গানে, বৃষ্টির ধারায়, প্রকৃতি করে তাঁর বন্দনা,
ঈশ্বরের অরণ্যে হৃদয় ভরে, জাগে তাঁর প্রশংসার ধারা।

তিনি স্রষ্টা, তিনি পালক, তাঁর হাতে সৃষ্টির রঙ,
অরণ্যের গভীরে তাঁর কণ্ঠ, প্রতিধ্বনিত প্রেমের সঙ্গ।
হে ঈশ্বর, তোমার মহিমা, অরণ্যে গায় অমর গান,
তোমার প্রশংসা হৃদয়ে ধরে, আমরা করি অর্ঘ্য দান।

প্রতি পাতায়, প্রতি ফুলে, তুমি লিখেছ সৌন্দর্যের কথা,
অরণ্যে তোমার পবিত্র আলো, জ্বালায় জীবনের ব্যথা।
তোমার প্রশংসা গাইব আমরা, অরণ্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে,
ঈশ্বর, তোমার মহিমায় মগ্ন, হৃদয় ভরপুর ভালোবাসা ঝরিয়ে।

(২)
মানুষ ও অরণ্য

অরণ্যের কোলে মানুষ এলো, স্বপ্ন নিয়ে হৃদয় ভরা,
গাছের ছায়ায়, ফুলের সুবাসে, জীবন পেল নতুন ধারা।
পাতার ফিসফাস, পাখির গান, মানুষ শুনলো মুগ্ধ কানে,
নদীর কল্লোলে, বাতাসের দোলে, হৃদয় জাগল প্রেমের তানে।

অরণ্য দিলো মাটির আশ্রয়, ফলের মিঠে অমৃত ভাÐার,
মানুষ গড়লো সভ্যতার স্বপ্ন, তবু ভুললো প্রকৃতি দানের।
কুড়–ল হাতে কাটলো গাছ, ধ্বংস করলো সবুজের বাসা,
অরণ্য কাঁদে, মানুষ হাসে, ভুলে গেল তাদের পুরানো কাসা।

তবু অরণ্য ক্ষমা করে, বুক পেতে দেয় আবার ফিরে,
মানুষের হাতে রোপিত বীজে, নতুন সবুজ জাগে তীরে।
পাখির ডাকে, ঝর্নার গানে, মানুষ খুঁজে হারানো প্রাণ,
অরণ্য শেখায় ভালোবাসা, একত্রে বাঁচার অমর গান।

মানুষ আর অরণ্য, দুই বন্ধু, হৃদয়ে বাঁধা একই সুতোয়,
একের ক্ষতি, অন্যের ব্যথা, জীবন চলে একই ক‚টোয়।
হে মানুষ, শোন অরণ্যের কথা, তার বুকে রাখ হাতের ছোঁয়া,
তার সবুজে মিশে যায় প্রাণ, জীবন হবে সৌন্দর্যময়া।

অরণ্যের গভীরে মানুষ খুঁজে, নিজের হারানো শান্তির ঠিকানা,
প্রকৃতির কোলে মিলে যায় মন, ভুলে যায় সকল অভিমানা।
মানুষ ও অরণ্য, চিরসঙ্গী, একে অপরের প্রাণের ধন,
হাতে হাত রেখে চলব আমরা, সবুজ পৃথিবীর অমর গগন।

(৩)
শহর নহে অরণ্য চাই

শহরের ধোঁয়া, কংক্রিটের জঙ্গল, মন কাঁদে নিঃশব্দে,
অরণ্য চাই, সবুজের কোলে, যেখানে প্রাণ মুক্ত স্বপ্নে।
গাছের ছায়ায় শান্তির ডাক, পাখির কলতানে হৃদয় ভরে,
শহরের কোলাহল ছেড়ে এসো, অরণ্যের গভীরে যেখানে ডোরে।

নদীর কল্লোল, ফুলের সুবাস, মাটির গন্ধে প্রাণের স্পর্শ,
শহরের ধূসর আকাশ ভুলে, অরণ্যে খুঁজি আলোর হর্ষ।
কুড়–লের আঘাতে রক্ত ঝরে, অরণ্য কাঁদে নীরব ব্যথায়,
মানুষ, এসো ফিরে তার কাছে, রোপণ করি সবুজের মায়ায়।

শহরের রাতে নক্ষত্র হারায়, কৃত্রিম আলোয় ঢাকে আকাশ,
অরণ্যে দেখো তারার মেলা, হৃদয় জুড়ায় অমৃত বাতাস।
শহর নহে, যান্ত্রিক জীবন, বন্দি করে মনের উৎসব,
অরণ্য চাই, যেখানে মুক্তি, প্রকৃতির কোলে প্রাণের স্বরব।

ঝর্নার গানে, পাতার নৃত্যে, জীবন পায় নতুনের স্বাদ,
শহরের শৃঙ্খল ভেঙে এসো, অরণ্যে মিলুক প্রাণের আহ্লাদ।
হে মানুষ, শোন অরণ্যের ডাক, তার বুকে ফিরে যাও আবার,
শহরের ধূলি ঝেড়ে ফেলে, সবুজে রাঙাও জীবনের খাতার।

অরণ্য চাই, যেখানে শান্তি, যেখানে মিশে প্রকৃতির সুর,
শহরের ক্লান্তি দূর হবে, হৃদয় ভরবে অমলিন নূর।
এসো ফিরি সেই সবুজ বনে, যেখানে জীবন অমৃতময়,
শহর নহে, অরণ্য চাই, প্রকৃতির কোলে হৃদয় নির্ভয়।

(৪)
অরণ্য নির্জনতায় ঈশ্বর খুঁজি

ঘন অরণ্যের গভীরে আমার পথচলা,
যেখানে জাগে না কোনো কোলাহল, কোনো জটলা।
পাতাঝরা পথের শেষে নেমে আসে স্থিরতা,
এই নির্জনতাতেই খুঁজি জীবনের বারতা।

সূর্যের আলো যখন ছেঁকে আসে গাছের ফাঁকে,
মৃদু বাতাস ফিসফিস করে কিছু যেন ডাকে।
মাটির সে সোঁদা গন্ধে পাই এক অচেনা সুবাস,
যেন এই বনেই রয়েছে ঈশ্বরের আভাস।

মনের গভীরে তখন রুদ্ধ যত সংশয়,
কেবল নীরবতাতেই যেন সত্য কথা কয়।
অরূপের সুর শুনি বৃক্ষের মৌনতাতে,
খুঁজে দেখি সেই সত্তা আপন নীরবতাতে।

অবশেষে বুঝি এ কী! বাহিরের খোঁজা বৃথা,
সেই ঈশ্বর বাস করেন এই শান্তি-নিঃস্বতা।
অরণ্য তাই তো দিল গভীর সে পরিচয়,
নির্জনতায় মিশে আছে এক চিরন্তন আশ্রয়।

(৫)
অরণ্য ও রোদ ঝলমলে

গাঢ় সবুজ, অরণ্যÑ
ভেতরটা শীতল, পুরাতন ভিজে পাতার গন্ধ,
এখানে সময় হাঁটে খুব ধীরে।
হাজার বছরের শেকড়গুলো ঘুমিয়ে আছে অন্ধকারে।

হঠাৎ, তীব্র হলদে এক আক্রমণ।
রোদ ঝলমলে ফালা ফালা হয়ে নামছে মাটি ছুঁতে,
যেন কাঁচের অসংখ্য ভাঙা টুকরা।
আলোর ছুরিকাঘাত গভীর ছায়ায়।

বাতাসের সামান্য কাঁপনে
পাতার ফাঁকে সৃষ্টি হয় আলোর নাচের ময়দান,
লক্ষ ধূলিকণা সেখানে সোনার গুঁড়োÑ
এক মুহূর্তের জন্য সব কিছু স্পষ্ট।

বাইরেটা ছিল শুধু সোনালী চিৎকার,
ভিতরে এসে সে মিশে গেল শান্ত সবুজের সাথে।
এক কোণে, ভিজে শ্যাওলার ওপর,
রোদ এখন নরম, একটি হলুদ আঙুল।

অন্ধকার আর আলোÑ
তারা এখানে আর আলাদা নয়।
এই অরণ্যের নিঃশ্বাসে
রোদ শুধু উষ্ণতা নয়, এক ধরণের নীরব ভাষা।

(৬)
অরণ্যে মন্দ পরিকল্পনা

অরণ্যের গভীরে ছায়া, সবুজের কোলে শান্তির নীড়,
কিন্তু মানুষের মনে লুকায়, মন্দ পরিকল্পনার বিষাক্ত তীর।
গাছের শাখায় পাখির গান, নদীর স্রোতে প্রাণের ধারা,
তবু লোভের ছায়া নামে, ধ্বংসের ছুরি চলে অন্ধকারা।

কুড়–ল হাতে মানুষ আসে, সবুজ কাটে নিষ্ঠুর হাসি,
অরণ্য কাঁদে, মাটি রোদে, হারায় প্রকৃতির পবিত্র বাসি।
লাভের আশায় বনের প্রাণ, ছিনিয়ে নেয় অট্টালিকার ডাক,
মন্দ পরিকল্পনা জাল বিছায়, অরণ্য হয় ধূসর ধূম্র ফাঁক।

পাখির কলতান থেমে যায়, ঝর্নার গানে লাগে ক্ষত,
মানুষ ভুলে, তার নিজ হাতে, ধ্বংস করছে জীবনের রতœ।
অরণ্যের বুকে রক্ত ঝরে, প্রকৃতি কাঁদে নীরব ব্যথায়,
মন্দ পরিকল্পনা ছড়ায় বিষ, হৃদয়ে জাগে অশান্তির মায়া।

কিন্তু শোনো, অরণ্যের কণ্ঠ, ফিসফাসে ডাকে ফিরে আয়,
মন্দ ছেড়ে, সবুজ রোপো, প্রকৃতির কোলে প্রাণ বাঁচায়।
মানুষ, থামাও ধ্বংসের পথ, শুনো বনের অস্ফুরিত কান্না,
অরণ্য বাঁচাও, প্রাণ বাঁচাও, ফিরিয়ে দাও জীবনের ধারণা।

হে লোভী মন, ফিরে তাকাও, অরণ্যে মিশে আছে তোমার প্রাণ,
মন্দ পরিকল্পনা ত্যাগ করো, সবুজে রাঙাও জীবনের গান।
অরণ্যের কোলে ফিরে এসো, রোপণ করো ভালোবাসার বীজ,
ধ্বংস নয়, সৃষ্টির পথে, অরণ্য হোক চির শান্তির সাজ।

(৭)
অরণ্যে কবিতা খুঁজি

অরণ্যের গভীরে পা ফেলি, কবিতা খুঁজি সবুজের কোলে,
পাতার ফিসফাসে, বাতাসের সুরে, হৃদয় জাগে কাব্যের দোলে।
পাখির কলতানে, নদীর ধারায়, শব্দের মালা গাঁথে প্রকৃতি,
অরণ্যের ছায়ায়, মনের মাঝে, জন্ম নেয় কবিতার রূপগীতি।

গাছের শাখায় আলোর খেলা, ফুলে ফুলে রঙের উৎসব,
প্রতি শিশিরে, প্রতি পাতায়, কবিতা লুকায় প্রাণের স্বরব।
ঝর্নার গানে, মেঘের ছায়ায়, কবির মন পায় অমৃত স্পর্শ,
অরণ্যে খুঁজি সেই কবিতা, যা হৃদয়ে জাগায় গভীর হর্ষ।

মাটির গন্ধে, সবুজের স্পন্দনে, কথা বলে অরণ্যের প্রাণ,
কবিতা খুঁজি, তারই মাঝে, যেখানে মিশে জীবনের গান।
প্রতি পাতায় লেখা এক পঙক্তি, প্রতি ডালে কাব্যের ইশারা,
অরণ্যের বুকে কবিতা জাগে, হৃদয়ে বাজে সৌন্দর্যের ধারা।

হে অরণ্য, তুমি কবিতার ভাÐার, তোমার কোলে মনের আলো,
তোমার সুরে, তোমার ছন্দে, কবিতা খুঁজি, হৃদয় ভালো।
এসো কবি, অরণ্যে এসো, কলম হাতে রচো নতুন গীতি,
সবুজের কোলে, প্রকৃতির মাঝে, জন্ম নিক চির অমর কবিতি।

(৮)
মানুষের অরণ্য সম্পদ

অরণ্য মানুষের প্রাণের ধন, সবুজের বুকে লুকানো জীবন।
গাছের শাখায় আশ্রয়, পাতায় শ্বাসের অক্সিজেন।
নদীর স্রোত মানুষের তৃষ্ণা মেটায়, ফলের মিঠে ভরায় মন।
অরণ্যের মাটি, ফসলের ক্ষেত্র, জীবিকার অফুরান কারণ।

পাখির ডাক, প্রজাপতির রঙ, মানুষের হৃদয়ে সৌন্দর্য জাগায়।
ঔষধি গাছ, বনের গহনে, রোগের মুখে দেয় প্রতিরোধ।
মানুষের শরীর, মনের শান্তি, অরণ্যের কোলে খুঁজে পায় আলো।
বৃষ্টির ডাক, মেঘের ছায়া, অরণ্য দেয় জলের ভাÐার।

কাঠের ঘর, জ্বালানির উৎস, অরণ্যের দানে মানুষের সুখ।
তবু মানুষ ভুলে, লোভের তাড়ায় কাটে গাছ, ধ্বংস করে মাটি।
অরণ্যের সম্পদ শুধু নয় ধন, এ জীবনের শ্বাস, প্রকৃতির হৃৎপিÐ।
মানুষের হাতে অরণ্য কাঁদে, যখন ধূসর হয় তার সবুজ।

অরণ্য দেয় মানুষকে প্রাণ, তবু মানুষ ভাঙে তার নির্ভরতা।
শিকড়ে শিকড়ে জড়ানো জীবন, অরণ্যের সম্পদে মানুষের বাঁচা।
একটি গাছ রোপে, একটি বীজ বুনে, মানুষ ফিরায় প্রকৃতির ঋণ।
অরণ্যের সম্পদ, মানুষের অধিকার, তবু দায়িত্ব তার রক্ষার।

হে মানুষ, অরণ্যকে ভালোবাসো, তার বুকে রাখো হৃদয়ের ছোঁয়া।
সম্পদ নয় শুধু, এ প্রাণের আশ্রয়, এ জীবনের চির সঙ্গী।
অরণ্য বাঁচলে মানুষ বাঁচে, তার সবুজে মিশে আমাদের প্রাণ।
অরণ্যের সম্পদ, মানুষের ধন, রক্ষা করো, রাখো চির অ¤øান।

(৯)
অরণ্যের মতো ভালোবাসার মানুষ

তুমি সেই মানুষÑ
যার প্রেম ঘন অরণ্যের মতো,
আলো সেখানে সহজে পৌঁছায় না সহজে,
কিন্তু পৌঁছালে সবটুকুই হয়ে যায় সোনা।

তোমার ছায়া আমার গোপন আশ্রয়,
পৃথিবীর সব কোলাহল যেখানে এসে থেমে যায়।
পুরাতন বৃক্ষের মতো তোমার ধৈর্য ও নীরবতা,
নীরবে শোনো আমার সমস্ত ভুল, সমস্ত ভয়।

তোমাকে আবিষ্কার করা সহজ নয়,
যেন হাজার বছরের শেকড়ের পথ ধরে হাঁটা,
গভীর, আর্দ্র, অজানা।
তবু জানি, তুমি কখনও পথ হারাতে দাও না।

তোমার বুকে হাজারো পাখির বাসাÑ
আমার যত অস্থিরতা, আমার যত গান।
তুমি সব ধারণ করো,
ফিরে আসার নির্ভরতা তুমিই।

এই ভালোবাসায় কোনো কৃত্রিমতা নেইÑ
শুধু সবুজ সজীবতা আর অদম্য এক শক্তি।
তুমি স্থির, তুমি বিস্তৃত,
আমার জীবনের একমাত্র চিরহরিৎ ভ‚মি।

(১০)
নিজেদের কুড়াল-ঘাত

সবুজ ঢেকেছে ধরনীর মুখ, ছিল অরণ্য রাজ,
শীতল ছায়ায় ছিল প্রকৃতির যত কাজ।
প্রাণভরে নিতো শ্বাস বাতাসেরা শুদ্ধতায়,
জীবনের মূলমন্ত্র ছিল এই পাতায় পাতায়।

লোভের কুড়াল পড়িল সেথায়, চলিল আঘাত,
সভ্যতার নামে হল বনভ‚মি নিপাত।
কাটিল সকল গাছ, জন্মভ‚মি শূন্য হল,
ভবিষ্যৎ গেল কেঁদে, বর্তমানের ছল।

এই ধ্বংসের খেলা, এ কেবলই ভুল কাজ,
এ যেন নিজের পায়ে কুড়াল হানার আওয়াজ।
যে হাতে গড়তে পারতো শান্তির শীতল নীড়,
সেই হাতে কাটি নিজেরে, আমরা কেমন বীর?

আকাশ কাঁদে আজ, বৃষ্টি ঝরে না আর,
মাটি ফাটে রোদতাপে, নেই কোনো প্রতিকার।
নদী শুকিয়ে গেল, পাখি হারালো আশ্রয়,
কোথায় পালাবো মোরা, যখন প্রকৃতি রুষ্ট হয়?

বাতাস বিষাক্ত হলো, ফুসফুসে জমে ভয়,
খাদ্য ফুরাবে দ্রæত, পৃথিবী হবে ক্ষয়।
যে বাঁচাতো মোদের, তারেই করেছি খুন,
এ অপরাধের ভারে হবে জীবন বিলীন।

এখনও সময় আছে, ফিরে চলো সেই পথে,
প্রকৃতিকে বাঁধি ভালোবাসার নতুন রথে।
ভুল জেনেও কেন করি ধ্বংসের আয়োজন?
নিজের বিনাশে কেন এত তীব্র প্রয়োজন?

(১১)
অরণ্য আমায় শেখায়

অরণ্য, তুমি নীরব গুরু,
তোমার ছায়ায় শিকড়ের গল্প,
পাতার ফিসফাসে জীবনের সুর।
তুমি শেখাও ধৈর্য,
যেমন প্রাচীন বৃক্ষ দাঁড়িয়ে থাকে,
ঝড়ের মুখে, বৃষ্টির ঝাপটায়,
নিশ্চুপ, অটল।
তোমার মাটি বলে,
জীবন মানে সংঘর্ষ,
তবু ফুটে ওঠে কচি পাতা,
তবু গজায় অঙ্কুর।
তুমি শেখাও মুক্তি,
যেমন পাখি গায় স্বাধীন গান,
শেকল ছাড়া, ভয় ছাড়া।
অরণ্য, তুমি শেখাও ভালোবাসা,
যেমন নদী আলিঙ্গন করে তীর,
যেমন ফুল দান করে মধু,
কিছু না চেয়ে।
তোমার নিস্তব্ধতায় শুনি,
মানুষের হৃদয়ের কোলাহল,
আর শিখি, কীভাবে শান্ত হতে হয়।
অরণ্য, তুমি আমায় বলো,
জীবন এক দীর্ঘ যাত্রা,
পথে হারিয়ে গেলেও,
তোমার ছায়া ডাকে ফিরে।
তুমি শেখাও,
মৃত্যুও এক নতুন শুরু,
যেমন শুকনো পাতা ঝরে,
আবার জন্মায় সবুজ।

 

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like