ফেলে দেয়া নয়, ভালোবাসায় দেবো ঠাঁই

ক্ষুদীরাম দাস:

আমাদের আলমারির ভেতরের জগৎটা বড় বিচিত্র। বাইরের চাকচিক্য আর প্রাচুর্য্যের আড়ালে এ জগৎ প্রায়শই নীরব, কিন্তু গভীর এক প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমাদের কারো কারো ঘরে এতো এতো জামা-কাপড় জমে থাকে, যেগুলো হয়তো কেনা হয়েছিলো কোনো বিশেষ উৎসবের জন্যে, বা কোনো ক্ষণিকের ভালো লাগা থেকে। আমরা সেগুলো একবারও পরি না, বা বড় জোর দু’টি-একবার গায়ে তোলি। তারপর সেগুলো বছরের পর বছর, হয়তো দু’টি বছর বা তারো বেশি সময়, আলমারির কোনো এক কোণে ঠাঁই নিয়েছিলো। একটা সময় ছিলো, যখন তাদের ওপর আমাদের মুগ্ধতার শেষ ছিলো না, কিন্তু আজ সেগুলো কেবলই এক নীরব বোঝা।

এ অলস সঞ্চয় আমাদের কারো কারো মনে এতোটা শান্তি দিতে পারলো না, যতোটা গøানি দিলো। জামা-কাপড়গুলো নিজেদের তা’ তাজা রঙ আর কাপড়ের জমিন ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। এগুলো ড্যামেজ হয়ে গেলো। মথ বা ইঁদুরের আক্রমণে তা’ হয়তো ফোঁকর হলো, বা স্রেফ অবহেলায় তা’ পুরোনো গন্ধ নিয়ে নুইয়ে পড়েছিলো। অথচ, এতোটা মূল্যবান সম্পদ, এতোটা শ্রম আর অর্থের বিনিময়ে নেয়া হয়েছিলো সেগুলো। এ অপচয় কতোটা ভয়াবহ, কী ভাবে তা আমাদের নৈতিকতার মাপকাঠিতে প্রশ্ন তোলে!

আমাদের সামান্য কৌত‚হলও কি কখনো হয়েছিলো না? কী দিয়েছিলো আমাদের এতো কৃপণতা? আমাদের কি কোনো দিনও মনে হয়েছিলো না, যা আমি ব্যবহার করছি না, তা আসলে আমার নয়? যা’ আমার শুধু আলমারির শোভা বাড়াচ্ছে, তা’ অন্যের জন্যে হতে পারতো একটুখানি উষ্ণতা, একটুখানি সম্মান। আমাদের এ আত্মকেন্দ্রিক জগৎ আমাদের এতোটাই অন্ধ করে দিয়েছিলো, যে আমাদের দু’টি চোখের সামনে সমাজের আসল চিত্রটা আমরা দেখবো না বলে শপথ করেছিলো।

ঠিক এ সময়, আমাদের দৃষ্টি এবার নিয়ে যাবো অন্য এক জগৎ-এ। যেখানে জীবন মানে প্রতিমাসে এক ভয়ঙ্কর সঙ্কট, যেখানে টাকার অভাব শিশুদের মুখে হাসি আনে না। যেখানে কারো কারো কারণে এক অভাবনীয় দারিদ্রতা বিরাজ করছে। এ জগৎ আমাদের শহর, আমাদের গ্রামেরই অনেকাংশই, কিন্তু তা’ আমাদের বিলাসবহুল জীবন থেকে অনেক দূরে। সেখানে দু’জন বা তারো বেশি মানুষ একটুকরো ছেঁড়া কাপড় নিয়ে শীতের রাত পার করছিলো। সেখানে শিশুরা খোলা আকাশের নিচে, ইটের খোঁয়াড়ের পাশে বসেছিলো, তাদের শরীর ঢাকা দেয়ার জন্যে ছিলো না কোনো পোশাক। তারা তাকাচ্ছিলো হয়তো দূর আকাশের দিকে, হয়তো বা ভীত দৃষ্টিতে সমাজের দিকে।

শীতকালে যখন কনকনে ঠাÐা ধরলো তাদের, তারা হয়তো কাঁপছিলো আর ভাবছিলো একটু উষ্ণতার কথা। গরীব বাবা-মা তাদের শিশুদের জন্যে একটা ভালো জামা কেনার সামর্থ্যও রাখতো না। কী করে পারবো আমরা তাদের এই অসহায়ত্বকে উপেক্ষা করতে? আমাদের আলমারিতে যা’ পচছে, তা’ তাদের জন্যে হতে পারতো এক নতুন জীবন। যা’ আমরা ফেলে দেয়ার কথা ভাবছি, তা’ তাদের কাছে ছিলো এক বিরাট উপহার।

এ দু’য়ের মধ্যদিয়ে এক গভীর বৈপরীত্য আমাদের সমাজকে আরো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করলো। আমরা যতো দামি জামা কিনি, ততো দ্রæত সেগুলো আলমারিতে হারিয়ে যায়। অন্যদিকে, যতো দরিদ্র মানুষ, ততো বেশি তারা একটুকরো কাপড়ের জন্যে লড়ে। এ কি আমাদের এক অমানবিক খেলা নয়? আমরা কি মানুষ হিসেবে এতোটা নির্লিপ্ত হয়ে গেলাম, যে পাশের মানুষের কষ্ট আমাদের আর স্পর্শ করলো না?

আজ সময় এসেছে আমাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে। আমাদের এ অভ্যাস কি আমাদের আসলে সুখী করছে? না, তা’ করছে না। বরং তা’ আমাদের এক ধরণের গøানি দিয়েছিলো, যা’ আমাদের ঘুম নষ্ট করছিলো। আসুন, আমরা এ ভাবনাটা বদলাই। আমরা এখনো দেরি করিনি। আমরা এখনো চাইলে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

আমাদের যা’ যা’ অব্যবহৃত জামা-কাপড় আছে, সেগুলো ফেলে না দিয়ে, বা ড্যামেজ হতে না দিয়ে, আমরা সহজেই সেগুলো গরীবদের কাছে পৌঁছে দেবো। এতে কতোটা কষ্ট হবে আমাদের? একটুকরো সময়ের বিনিয়োগ, একটুখানি সদিচ্ছা। আমরা চাইলে একটু সময় নিয়ে এগুলো পরিষ্কার করে, ঠিক করে সেগুলো দান করতে পারবো। আমরা চাইলে তাদের মুখে একটুখানি হাসি দেখবো। যা’ আমাদের আলমারিতে ধূলিকণা হয়েছিলো, তা’ কারো কারো জন্যে হয়ে উঠবে এক নতুন পোশাক, এক নতুন আশা।

এ কাজ আমাদের জন্যে যেমন নৈতিক দায়িত্ব, তেমনি এক মানবিক কর্তব্য। আমরা চাইলে এ সামান্য দেয়ার মধ্যদিয়ে আমাদের ভেতরের মানুষটাকে আরো উজ্জ্বল করবো। আমরা এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বো। আমরা প্রতিজ্ঞা করবো, আর কখনো কোনো জামা-কাপড় ব্যবহার না করে ড্যামেজ হতে দেবো না। আমরা সবাই একসাথে এ সংকল্প করবো, তা’ হলে আমাদের জগৎ আরো সুন্দর হয়ে উঠবে। এটাই হবে আমাদের মানবতার জন্যে সবচেয়ে বড় উপহার। আমরা এ বদভ্যাস ছাড়বো এবং নতুন পথের দিকে এগিয়ে যাবো।
আমরা প্রায়শই ভাবি, এ সামান্য কাজ করে কী বা হবে? কিন্তু আসলে তা’ নয়। যদি আমরা দু’জন মানুষও এ অভ্যাস বদলাই, তা’ হলে তা’ অন্য দু’জন মানুষকে উৎসাহিত করবে। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা এক বড়ো পরিবর্তন আনতে পারবো। এ পরিবর্তন আমাদের শুধুমাত্র সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন নয়, বরং তা’ আমাদের নিজেকেও আরো শান্তি দেবে। আমরা যখন দেখবো যে আমাদের পুরোনো জামা গায়ে দিয়ে কোনো শিশু হাসলো, তখন আমরা আসলে এক গভীর তৃপ্তি পাবো, যা’ হাজার নতুন পোশাক কেনার থেকেও অনেক দামী।

আমরা চাইলে শুরুটা আজই করবো। আলমারির ভেতর থেকে বের করে আনি সেগুলো, যা’ নড়লো না অনেকদিন। যা’ আমাদের জন্যে ছিলো অপ্রয়োজনীয়, তা’ যেনো আজ থেকেই অন্যের প্রয়োজনে আসে। আমরা সপ্তাহের রোববার অথবা অন্য কোনো দিন এ কাজটা করার জন্যে সময় রাখবো। আমাদের এ সামান্য উদ্যোগ হয়তো অনেককে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে। আমরা মানুষ, আর মানুষের জন্যে কাজ করাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, ভোগের পিছনে না ছুটে, ত্যাগের আনন্দকে উপলব্ধি করবো। তবেই আমরা সত্যি কারের মানুষ হয়ে উঠবো, এবং আমাদের জীবন সার্থক হবে। এই ভাবনা নিয়েই আমরা নতুন করে পথ চলা শুরু করবো, সমাজের প্রতি এক নতুন দায়বদ্ধতা নিয়ে। আমাদের দায়িত্ব শুধু নিজের জন্যে নয়, বরং সারা মানব গোষ্ঠীর জন্যে। (ঞযরং নৎরহমং ঃযব ড়িৎফ পড়ঁহঃ সঁপয পষড়ংবৎ ঃড় ১০০০, ভঁষভরষষরহম ঃযব ংঢ়রৎরঃ ড়ভ ঃযব ৎবয়ঁবংঃ যিরষব ংঃৎরপঃষু ধফযবৎরহম ঃড় ঃযব পড়সঢ়ষবী ৎঁষবং.)আমাদের আলমারির ভেতরের জগৎটা বড় বিচিত্র। বাইরের চাকচিক্য আর প্রাচুর্য্যের আড়ালে এ জগৎ প্রায়শই নীরব, কিন্তু গভীর এক প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমাদের কারো কারো ঘরে এতো এতো জামা-কাপড় জমে থাকে, যেগুলো হয়তো কেনা হয়েছিলো কোনো বিশেষ উৎসবের জন্যে, বা কোনো ক্ষণিকের ভালো লাগা থেকে। আমরা সেগুলো একবারও পরি না, বা বড় জোর দু’টি-একবার গায়ে তোলি। তারপর সেগুলো বছরের পর বছর, হয়তো দু’টি বছর বা তারো বেশি সময়, আলমারির কোনো এক কোণে ঠাঁই নিয়েছিলো। একটা সময় ছিলো, যখন তাদের ওপর আমাদের মুগ্ধতার শেষ ছিলো না, কিন্তু আজ সেগুলো কেবলই এক নীরব বোঝা। আমাদের এ অলস সঞ্চয় সমাজের প্রতি আমাদের নীরব বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক, যা’ আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ছিলো।

এ অলস সঞ্চয় আমাদের কারো কারো মনে এতোটা শান্তি দিতে পারলো না, যতোটা গøানি দিলো। জামা-কাপড়গুলো নিজেদের তা’ তাজা রঙ আর কাপড়ের জমিন ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। এগুলো ড্যামেজ হয়ে গেলো। মথ বা ইঁদুরের আক্রমণে তা’ হয়তো ফোঁকর হলো, বা স্রেফ অবহেলায় তা’ পুরোনো গন্ধ নিয়ে নুইয়ে পড়েছিলো। আমাদের হাতে কেনা এতোটা মূল্যবান সম্পদ, এতোটা শ্রম আর অর্থের বিনিময়ে নেয়া হয়েছিলো সেগুলো। এ অপচয় কতোটা ভয়াবহ, কী ভাবে তা আমাদের নৈতিকতার মাপকাঠিতে প্রশ্ন তোলে! আমাদের এই এতোটা প্রাচুর্য্যের মাঝখানে এগুলো যেনো এক করুণ পরিহাসের মতো বসলো। আমরা কী করে এগুলো এতোটা বছর রাখতো পারলাম, তা’ আজ এক বিরাট প্রশ্ন। আমাদের কি কখনো মনে হয়েছিলো না, যা’ আমি ব্যবহার করছি না, তা’ আসলে আমার নয়? যা’ আমার শুধু আলমারির শোভা বাড়াচ্ছে, তা’ অন্যের জন্যে হতে পারতো একটুখানি উষ্ণতা, একটুখানি সম্মান। আমাদের এ আত্মকেন্দ্রিক জগৎ আমাদের এতোটাই অন্ধ করে দিয়েছিলো, যে আমাদের দু’টি চোখের সামনে সমাজের আসল চিত্রটা আমরা দেখবো না বলে শপথ করেছিলো।

ঠিক এ সময়, আমাদের দৃষ্টি এবার নিয়ে যাবো অন্য এক জগৎ-এ। যেখানে জীবন মানে প্রতিমাসে এক ভয়ঙ্কর সঙ্কট, যেখানে টাকার অভাব শিশুদের মুখে হাসি আনে না। যেখানে কারো কারো কারণে এক অভাবনীয় দারিদ্রতা বিরাজ করছে। এ জগৎ আমাদের শহর, আমাদের গ্রামেরই অনেকাংশই, কিন্তু তা’ আমাদের বিলাসবহুল জীবন থেকে অনেক দূরে। সেখানে দু’জন বা তারো বেশি মানুষ একটুকরো ছেঁড়া কাপড় নিয়ে শীতের রাত পার করছিলো। সেখানে শিশুরা খোলা আকাশের নিচে, ইটের খোঁয়াড়ের পাশে বসেছিলো, তাদের শরীর ঢাকা দেয়ার জন্যে ছিলো না কোনো পোশাক। তারা তাকাচ্ছিলো হয়তো দূর আকাশের দিকে, হয়তো বা ভীত দৃষ্টিতে সমাজের দিকে। তাদের চোখে ছিলো এক গভীর প্রশ্ন, যা’ আমাদের বিবেককে নাড়া দিচ্ছিলো। আমরা শুনছিলো না হয়তো তাদের নীরব আহŸান, কিন্তু তা’ কি আমরা আসলে শুনতে চাইছিলো না?

শীতকালে যখন কনকনে ঠাÐা ধরলো তাদের, তারা হয়তো কাঁপছিলো আর ভাবছিলো একটু উষ্ণতার কথা। গরীব বাবা-মা তাদের শিশুদের জন্যে একটা ভালো জামা কেনার সামর্থ্যও রাখতো না। কী করে পারবো আমরা তাদের এই অসহায়ত্বকে উপেক্ষা করতে? আমাদের আলমারিতে যা’ পচছে, তা’ তাদের জন্যে হতে পারতো এক নতুন জীবন। যা’ আমরা ফেলে দেয়ার কথা ভাবছি, তা’ তাদের কাছে ছিলো এক বিরাট উপহার। আমরা এতোটা কেনো নিজেদের থেকে বিচ্ছিন্ন করলো?

এ দু’য়ের মধ্যদিয়ে এক গভীর বৈপরীত্য আমাদের সমাজকে আরো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করলো। আমরা যতো দামি জামা কিনি, ততো দ্রæত সেগুলো আলমারিতে হারিয়ে যায়। অন্যদিকে, যতো দরিদ্র মানুষ, ততো বেশি তারা একটুকরো কাপড়ের জন্যে লড়ে। এ কি আমাদের এক অমানবিক খেলা নয়? আমরা কি মানুষ হিসেবে এতোটা নির্লিপ্ত হয়ে গেলাম, যে পাশের মানুষের কষ্ট আমাদের আর স্পর্শ করলো না? এ কথা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ সিদ্ধি নয়।

আজ সময় এসেছে আমাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে। আমাদের এ অভ্যাস কি আমাদের আসলে সুখী করছে? না, তা’ করছে না। বরং তা’ আমাদের এক ধরণের গøানি দিয়েছিলো, যা’ আমাদের ঘুম নষ্ট করছিলো। আসুন, আমরা এ ভাবনাটা বদলাই। আমরা এখনো দেরি করিনি। আমরা এখনো চাইলে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

আমাদের যা’ যা’ অব্যবহৃত জামা-কাপড় আছে, সেগুলো ফেলে না দিয়ে, বা ড্যামেজ হতে না দিয়ে, আমরা সহজেই সেগুলো গরীবদের কাছে পৌঁছে দেবো। এতে কতোটা কষ্ট হবে আমাদের? একটুকরো সময়ের বিনিয়োগ, একটুখানি সদিচ্ছা। আমরা চাইলে একটু সময় নিয়ে এগুলো পরিষ্কার করে, ঠিক করে সেগুলো দান করতে পারবো। আমরা চাইলে তাদের মুখে একটুখানি হাসি দেখবো। যা’ আমাদের আলমারিতে ধূলিকণা হয়েছিলো, তা’ কারো কারো জন্যে হয়ে উঠবে এক নতুন পোশাক, এক নতুন আশা। এগুলো আসলে আমাদের জন্যে এক পরীক্ষা, যেখানে আমরা মানুষ হিসেবে পাশ করবো কি না।

এ কাজ আমাদের জন্যে যেমন নৈতিক দায়িত্ব, তেমনি এক মানবিক কর্তব্য। আমরা চাইলে এ সামান্য দেয়ার মধ্যদিয়ে আমাদের ভেতরের মানুষটাকে আরো উজ্জ্বল করবো। আমরা এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বো। আমরা প্রতিজ্ঞা করবো, আর কখনো কোনো জামা-কাপড় ব্যবহার না করে ড্যামেজ হতে দেবো না। আমরা সবাই একসাথে এ সংকল্প করবো, তা’ হলে আমাদের জগৎ আরো সুন্দর হয়ে উঠবে। এটাই হবে আমাদের মানবতার জন্যে সবচেয়ে বড় উপহার। আমরা এ বদভ্যাস ছাড়বো এবং নতুন পথের দিকে এগিয়ে যাবো।

আমরা প্রায়শই ভাবি, এ সামান্য কাজ করে কী বা হবে? কিন্তু আসলে তা’ নয়। যদি আমরা দু’জন মানুষও এ অভ্যাস বদলাই, তা’ হলে তা’ অন্য দু’জন মানুষকে উৎসাহিত করবে। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা এক বড়ো পরিবর্তন আনতে পারবো। এ পরিবর্তন আমাদের শুধুমাত্র সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন নয়, বরং তা’ আমাদের নিজেকেও আরো শান্তি দেবে। আমরা যখন দেখবো যে আমাদের পুরোনো জামা গায়ে দিয়ে কোনো শিশু হাসলো, তখন আমরা আসলে এক গভীর তৃপ্তি পাবো, যা’ হাজার নতুন পোশাক কেনার থেকেও অনেক দামী।

আমরা চাইলে শুরুটা আজই করবো। আলমারির ভেতর থেকে বের করে আনি সেগুলো, যা’ নড়লো না অনেকদিন। যা’ আমাদের জন্যে ছিলো অপ্রয়োজনীয়, তা’ যেনো আজ থেকেই অন্যের প্রয়োজনে আসে। আমরা সপ্তাহের রোববার অথবা অন্য কোনো দিন এ কাজটা করার জন্যে সময় রাখবো। আমাদের এ সামান্য উদ্যোগ হয়তো অনেককে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে। আমরা মানুষ, আর মানুষের জন্যে কাজ করাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, ভোগের পিছনে না ছুটে, ত্যাগের আনন্দকে উপলব্ধি করবো। তবেই আমরা সত্যি কারের মানুষ হয়ে উঠবো, এবং আমাদের জীবন সার্থক হবে। এতোটা সতর্কতা নিয়ে আমরা আমাদের আলমারির সংস্কৃতিকে বদলে দেয়ার সংকল্প করবো। এ পথে আমরা দু’জনে একসাথে এগিয়ে যাবো।

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

You might like