

সম্পাদকীয়
বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো গ্রামীণ অর্থনীতি। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সরাসরি নির্ভর করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। অথচ দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ রাস্তাঘাট অবহেলিত থেকেছে। বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তার দুরবস্থা কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—আগামী দিনে কোনো প্রকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামীণ রাস্তাঘাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে অতীতের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়টি। উত্তরাঞ্চলের রাস্তাঘাট অবহেলিত থাকার কারণে জনগণ দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নে উঠে এসেছে বাস্তব চিত্র: রংপুর-৪ আসনে ১,৩৭৭ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ৪৮৯ কিলোমিটার পাকা, বাকিগুলো এখনো কাঁচা। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কতটা করুণ অবস্থা।
আমাদের মতামত
গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া মানে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। দুর্নীতিমুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারবেন, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হবে, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে।
সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামীণ রাস্তাঘাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
প্রকাশিত : রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রি.











